তুরস্কে দাবানল উপদ্রুত অঞ্চলকে 'দুর্যোগকবলিত এলাকা' ঘোষণা


 তুরস্কে দাবানল উপদ্রুত দক্ষিণাঞ্চলকে 'দুর্যোগকবলিত এরাকা' হিসেবে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। শনিবার টুইটারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন তিনি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'আমাদের জাতির ক্ষতের উপশমে, ক্ষতিপূরণে এবং তার অবস্থা আগের চেয়ে আরো উন্নতি করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া আমরা অব্যাহত রাখবো।'

এদিকে দাবানলে শনিবার বনবিভাগের আরো দু'জন কর্মীর মৃত্যু হওয়ায় এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই দাবানলে তুরস্কের দক্ষিণের ছয় প্রদেশের বনাঞ্চল পুড়ছে। বনাঞ্চল ছাড়িয়ে দাবানল গ্রাম ও পর্যটন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুর্যোগকবলিক এলাকা থেকে সাধারণ মানুষদের সরিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে রোববার তুরস্কের কৃষি ও বনমন্ত্রী বাকির পাকদেমিরলি এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১২টি বনাঞ্চলে আগুন লেগেছে। এর মধ্যে ১০৭টির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অপরদিকে পাঁচটির আগুন নেভানোর জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দাবানলের কারণে আনতালিয়া প্রদেশের মানাভগাত শহরে পাঁচজন ও মুগলা প্রদেশের মারমারিস শহরে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। ভূমধ্যসাগর উপকূলে অবস্থিত দু'টি শহরই তুরস্কের জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।

তুর্কি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফখরুদ্দিন কোজা জানিয়েছেন, মানাভগাত শহরে দাবানলে অসুস্থ হওয়া চার শ’ ব্যক্তি হাসপতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো ১০ ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অপরদিকে মারমারিস শহরে এক শ' ৫৯ ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এখনো একজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে নতুন করে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাতাই প্রদেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। জনবহুল এলাকায় দাবানলের আগুন ছড়িয়ে পড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

এদিকে তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, এজিয়ান সাগর উপকূলীয় মুগলা প্রদেশের পর্যটন স্থান বোদরুম শহরের কিছু অংশের হোটেলে থাকা পর্যটকদের স্থান ত্যাগ করার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্থান ত্যাগে পর্যটকদের সহায়তার জন্য ওই শহরের নৌকা ও ইয়টের মালিকদের সহায়তার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে শনিবার দাবানল উপদ্রুত অঞ্চল সফর করেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। হেলিকপ্টারে করে তিনি উপদ্রুত অঞ্চল পরিদর্শন করেন।

মানাভগাত শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, এই দুর্যোগের রাজনীতিকীকরণ করার চিন্তা করছে না সরকার। তবে ঘটনার সাথে 'নাশকতার সম্ভাবনার' তদন্ত করা হচ্ছে।

রজব তাইয়েব এরদোগান আরো বলেন, দাবানলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আজারবাইজান, ইরান, ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে পাঠানো বিমানসহ মোট ১৩টি বিমান কাজ করছে। এছাড়া কয়েক হাজার দমকল কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র : আলজাজিরা

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.