লেবাননে সরকার গঠনের দায়িত্ব ছাড়লেন সাদ আল-হারিরি


 লেবাবনে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশটির সরকার গঠনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মনোনীত প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সাথে বাবদা প্রাসাদে সাক্ষাতের পর পদত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি।

এর আগে গত বছরের ২২ অক্টোবর লেবাননের পার্লামেন্টের সদস্যদের ভোটে সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদে মনোনয়ন পান সাদ আল-হারিরি। কিন্তু মনোনয়নের নয় মাস পরেও সরকার গঠনে ব্যর্থ হন তিনি।

সাংবাদিকদের সাদ আল-হারিরি বলেন, 'আমি সরকার গঠনের দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। আউন কিছু পরিবর্তন চেয়েছিলেন, যা তিনি আবশ্যিক বিবেচনা করেছিলেন এবং বলেছিলেন আমরা পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়ায় আসতে পারবো না। আল্লাহ এই দেশকে হেফাজত করুন।'

অপরদিকে মিশেল আউন তার সাথে বৈঠকের আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সাদ আল-হারিরিকে অভিযুক্ত করেন।

প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'হারিরি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, তাদের ধর্মীয় বিভাজন এবং সংশ্লিষ্ট নামে কোনো প্রকার সংশোধনে অস্বীকার করেছেন।'

লেবাননে ম্যারোনাইট খ্রিস্টান, শিয়া মুসলিম ও সুন্নি মুসলিম, এই তিন বৃহৎ ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির সাংবিধানিক এক নিয়ম চালু রয়েছে। এই নিয়মের আওতায় দেশটির প্রেসিডেন্টকে ম্যারোনাইট খ্রিস্টান, প্রধানমন্ত্রীকে সুন্নি মুসলিম ও পার্লামেন্টের স্পিকারকে শিয়া মুসলিম হতে হয়।

লেবাননের আল-জাদিদ টেলিভিশনের সাথে সাক্ষাতকারে আল-হারিরি বলেন, দক্ষতা ও অর্থনীতিক সংস্কারের সামর্থ্য থাকা প্রার্থীদের নিয়ে তিনি সরকার গঠন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু আউন তাতে সম্মতি দেননি।

তিনি বলেন, '২০১৯ সালে আমি পদত্যাগ করেছি কেননা আমি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সরকার গঠন করতে চেয়েছি। কিন্তু যদি আমরা মিশেল আউনের সরকার গঠন করি তাতে দেশ রক্ষা হবে না।'

সাদ আল-হারিরির পদত্যাগের পর লেবাননের মূদ্রা পাউন্ডের মূল্য নতুন দফায় কমেছে। বৃহস্পতিবার এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে লেবানিজ পাউন্ডের মূল্য রেকর্ড পরিমাণে কমে দাঁড়িয়েছে ২১ পাউন্ড।

২০১৯ সালের অক্টোবরে বেকারত্ব মোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দুর্নীতির অবসানের দাবিতে দেশজুড়ে অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়েন সাদ আল-হারিরি। ওই বছরের শেষ থেকেই লেবাননের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।

গত বছরের আগস্টে বৈরুত বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর দেশটির অর্থনীতি আরেক দফা ধাক্কা খায়। বিস্ফোরণের কারণে বৈরুত বন্দর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়।

ক্রমেই অর্থনৈতিক দুর্গতিতে যাওয়া লেবাননের অবস্থার সংস্কারের জন্য সাদ আল-হারিরিকে গত বছরের অক্টোবরে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়।

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.