Header Ads

ফ্রান্স-গ্রীসকে এরদোগানের কড়া হুশিয়ারি

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুর্কি বহরে যেকোনো ধরনের হামলা বা হামলার চেষ্টার বিষয়ে গ্রিসকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তুরস্ক। এ ছাড়া খনিজ জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ ওই অঞ্চলে ফ্রান্স গুন্ডাদের মতো আচরণ করছে বলেও মন্তব্য করেছে আঙ্কারা। শুক্রবার ইস্তানবুলে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেন, অনুসন্ধানী জাহাজ ওরুক রেইসকে সঙ্গ দেয়া যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি গত বৃহস্পতিবার হামলার যথোপযুক্ত জবাব দিয়েছে।

কোন দেশের জাহাজ তুর্কিদের ওপর হামলা চালিয়েছে তা উল্লেখ না করে তিনি বলেন, এটি চলতে থাকলে তারা একই ধরনের জবাব পাবে। আমরা সামান্য হামলারও জবাব না দিয়ে ছাড়ব না। গ্যাসসমৃদ্ধ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অনুসন্ধান নিয়ে আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। তুরস্ক, গ্রিস, সাইপ্রাস, ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেই এ নিয়ে বিরোধ চলছে। গত সপ্তাহে গ্রিক দ্বীপ কাস্তেলোরিজো উপকূলে তুরস্ক তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ওরাক রেইস নামে একটি জাহাজ পাঠানোর পর থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়। জাহাজটির নিরাপত্তায় সাথে রয়েছে তুর্কি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ছোটখাটো একটি বহর।

গ্রিসও তুর্কিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা সংঘর্ষ বেধে যায়। গ্রিস এ ঘটনাকে দুর্ঘটনা বললেও তুরস্ক এটিকে উসকানি বলে দাবি করেছে। এ দিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ককে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে ফ্রান্সের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার ম্যাক্রোঁর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রিক প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিসের সাথে ফোনালাপে তুরস্কের একতরফা অনুসন্ধানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফরাসি নেতা। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার সুবিধার্থে তুরস্কের অনুসন্ধান স্থগিত করা উচিত। লিবিয়া সংঘর্ষের জেরে এমনিতেই ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ফরাসিদের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের ঘোষণায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়ে গেছে।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ড সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, ফ্রান্সেরই এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত যাতে উত্তেজনা বাড়তে পারে। 

আল জাজিরা

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.