সেনাদের ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বললেন জিংপিংp


বেজিং|

করোনা মহামারির মধ্যেই বাতাসে যুদ্ধের গন্ধ। নেপথ্যে আগ্রাসী চিন। যুদ্ধের হুংকার দিয়ে মঙ্গলবার দেশের সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

 'জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে' করোনা বিধিনিষেধ দূরে সরিয়ে লাজফৌজকে অবিলম্বে মহড়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
চিনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লালফৌজকে আরও শক্তিশালী ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে প্রশিক্ষণ এই মুহূর্তে খুব প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে' বলে মন্তব্য করেছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।


চিনের আগ্রাসী মনোভাবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভেঙে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে লালফৌজ। পূর্ব লাদাখের লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কনট্রোলের (LAC) আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে দুই থেকে আড়াই হাজার সেনাকর্মী মোতায়েন করেছে চিন। একই সঙ্গে ওই এলাকায় বাড়ছে চিনা ফৌজের অস্থায়ী ছাউনির সংখ্যা। আর LAC-তে চিনের এই প্ররোচনামূলক কার্যকলাপের জেরে ক্রমশ চড়ছে উত্তেজনার পারদ।

পড়শি দেশের এই হুমকির মুখে কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারতও। LAC-তে কোনও ধরনের পরিবর্তনের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। স্ট্র্যাটিজিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সেনা জওয়ানদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও। এ ছাড়া বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গেও পৃথকভাবে বৈঠক করেন নমো। ফলে বিগত ২০১৭ সালের ডোকলাম সংকটের পর ফের এক বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে দু'দেশ।


শুধু ভারত নয়, আমেরিকা এবং তাইওয়ানের সঙ্গেও চিনের কমিনিস্ট শাসকদের সম্পর্ক এই মুহূর্তে তলানিতে এসে ঠেকেছে। করোনা মহামারি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং শি জিনপিংয়ের সরকারের মধ্যে 'ঠাণ্ডাযুদ্ধে'র রেশ এখনও তাজা। এখানেই শেষ নয়। এর মধ্যে আবার তাইওয়ান দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চিনা সরকার। এ জন্য প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে করা হবে বলে হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে স্বয়ং শি জিনপিংকে। এমনকী স্বশাসিত অঞ্চল হংকংয়েও নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে চায় বেজিং। সেখানকার গণতন্ত্রকামী আন্দোলনের নেতাদের জেলে ঢোকানোর জন্য আইন আনতে চলেছে শি পিনপিংয়ের সরকার। সেই কাজ যে খুব সহজে পূরণ হবে না তা ভালো করেই বুঝতে পারছেন বেজিং। তাই চলছে হুমকি।

এমনই এক জটিল আবর্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের মহড়া শুরুর নির্দেশ দিলেন শি জিনপিং। গোটা বিষয়টির মধ্যে চিনের আগ্রাসন ফুটে উঠছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

সূত্রঃ এইসময়

© টি আর টি বাংলা ডেস্ক

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.