জামায়াত বিরোধীতার একাল সেকাল-১

জামায়াত বিরোধীতার একাল সেকাল-১ . সময়কাল-১৯৯১। দির্ঘ দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে ফেয়ার ইলেকশান দিলো ততকালিন অস্থাীয় রাষ্ট্রপতি। এরশাদের পতনের পরে ব্যাপক জমকালো এই নির্বাচন গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জরুরী ছিলো। নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত আসন না পাওয়া বি এন পি জামায়াত ইসলামীর সহায়তা চাইলো। বিনা শর্তে তাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিলো জামায়াত। যদিও তখন দশটি মন্ত্রনালয় চাইলে সেটা দিতে বাধ্য ছিলো বি এন পি। . রিএ্যাকশান-- আামাদের তামাম বুজুর্গকূল নারী নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার অভিনব অভিযোগ আরোপ করা শুরু করলেন। জামায়াত নারী নেতৃত্ব মেনে কোরআনের কোন কো আয়াতের খেলাফ আমল করে ইসলাম দল থেকে খারিজ হয়ে গেছে তার পোষ্ট মর্টেম করে লিফলেট হাতে নিয়ে বড় বড় কোর্তা পরিহিত বহু হযরতগন মাঠ চাউর করে ফেললেন। এটা শরীয়াতের প্রতি ভালোবাসায় ছিলো না, ছিলো জামায়াত বিরোধীতার বংশানুক্রমিক সিলসিলা রক্ষার জন্য। . সময়কাল-১৯৯৬ দলীয় সরকারের অধিনে মাগুরার উপ-নির্বাচনে দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচনের অনাকাংখিত, বিরুপ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলো জাতি। ফলাফল হলো নিরপেক্ষ সরকারের রুপরেখা প্রকাশ করলো জামায়াত ইসলামী। লুফে নিলো সরকার বিরোধী দলগুলো। শুরু হলো যুগপদ আন্দোলন। পতন হলো বি এন সরকারের। গঠিত হলো তত্ববধায়ক পদ্ধতির সরকার। বি এন পিও নির্বাচনে কোন ধরনের সমঝোতার করতে অপরাগতা প্রকাশ করলো। অতঃপর হযরতগনের ফতোয়ার প্রতি শ্রদ্ধা (!) রেখে জামায়াত একাকী নির্বাচন করলো। ক্ষমতায় আসলো আওয়ামী লীগ। . রিএ্যাকশান- দির্ঘ দিনের আদর্শিক শত্রু আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার ষোল আনা দায় জামায়াতের ঘারে চাপালেন ঐসব হযরতগণ। তাদের দাবি, বি এন পি সাথে পাল্লা দিয়ে তিনশ আসনে নির্বাচন না করলে আজকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারতো না। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসার একমাত্র দায় জামায়াতের। ইসলামী বিরোধী শক্তি আওয়ামী লীগের সাথে যুগপদ আন্দোলন করার কারনেই জামায়াত আবারো নারীর আচলের তলে যাওয়ার বদনাম হজম করলো। . সময়কাল-২০০১ এবার আর জামায়াত একা নয়। ইসলামী বিরোধী আওয়ামী সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার আন্দোলনে বি এন পির নেতৃত্বে চার দলীয় জোট গঠিত হলো। সেই জোটে ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে চল্লিশটিরও অধিক ইসলামী দল শরীক হয়েছিলো। জোট গঠনের রুপরেখায় স্পষ্ট করেই বলা হয়েছিলো, আন্দোলন, নির্বাচন জোটগত ভাবে হবে। আসন সংখ্যানুপাতে মন্ত্রনালয় বরাদ্দ হবে। . মজার বিষয় হলো, দির্ঘ দিন ধরে জামায়াতের বিরুদ্ধে নারী নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার ফতোয়াদাতাদের আকাবারগন বেগম জিয়ার নেত্রীত্বে সরকার গঠনে ঐক্যমত হয়েছিলেন যেদিন সেদিনও জামায়াত বিরোধী কিতাব প্রকাশিত হয়েছিলো যেখানে তাদের স্বাক্ষর, দোয়া বা কোন কোন ক্ষেত্রে ইজাজতের মতো মন্তব্য ছিলো। . রিএ্যাকশান-- চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পরে জামায়াতকে মন্ত্রানলয় দেওয়া হয় দুটি। ঐক্যজোটের কাছে একজন মন্ত্রীর নাম চাওয়া হয়। শুরু হয় ঐক্যজোটের ভিতরে টানাপোড়ন। বিভক্ত হয়ে যায় ঐক্য জোট। মুফতী আমিনী সাহেব শাইখুল হাদিসের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে আলাদা ঐক্য জোট গঠন করে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষনা করে এই সমস্যার জন্ম দেন। . এরকম ঘটনাপঞ্জির কারনে ঐক্যজোট মন্ত্রনালয় পেতে পারেনি, মন্ত্রীপরিষদে নিজেদের কোন লোকও দিতে পারেনি। পরবর্তিতে ঐসব ঘটনার জন্য জামায়াতকে দায়ী করা হয় এবং নিজেদের মুরব্বিদের ক্ষমতা রক্ষার বিভক্তির ইতিহাস জামায়াত বিরোধীতার চাদরে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অথচ মন্ত্রানলয়ে ঐক্যজোট আসলে জামায়াতের কোন সমস্যা হওয়ার কথা ছিলো না, না আসলে মন্ত্রনালয় বেশিও পেতো না। এরপরেও জামায়াতের বিষয়ে নেতিবাচক ফতোয়া চলছেই, আসলে আপনাদের সমস্যা কি ? Credit : Apu Ahmed

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.