Header Ads

ফিকহুল আক্বল্লিয়্যাহ : অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারে _

ফিকহুল আক্বল্লিয়্যাহ : অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারে
_______________________

'ফিকহুল আক্বল্লিয়্যাহ্' ফিকহে ইসলামির গুরুত্বপূর্ন একটি অধ্যায়। এর সাধারণ অর্থ হচ্ছে -- সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য উপযোগী ইসলামী বিধানসমুহ। এখানে সংখ্যালঘু শব্দটি সাধারণ শাব্দিক অর্থে নেয়া হয়নি। মানে,  এর অর্থ শুধু 'সংখ্যাগুরু অমুসলিমদের মধ্যে বসবাসকারী মুসলমান সম্প্রদায়' নয়। যেমন, ইন্ডিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার মুসলমানগণ। অর্থাৎ সংখ্যাটা বিবেচ্য নয়; বরং ইসলামী বিধান পালনের স্বাধীনতাটাই বিবেচ্য। এই অর্থ 'যেসব মুসলমান এমন এক সমাজে বসবাস করছে যেখানে তারা কোন পরিপার্শিক কারণে ইসলামের সকল বিধান পালন করতে পারছে না, যদিও সংখ্যার দিক দিয়ে সেখানে মুসলমানের সংখ্যা বেশি, তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। মিসরের দারুল ইফতার ফতওয়ায় এমনটাই বলা হয়েছে। যদিও ফিকহুল আক্বল্লিয়্যার উপর লিখিত প্রাথমিক কিতাবাদিতে সংখ্যার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে সেটা সঠিক নয়। এ হিসেবে বর্তমান সময়ের বহু মুসলিম দেশেই ফিকহুল আকল্লিয়্যাহ্ কার্যকর রয়েছে। যেমন, বাংলাদেশ। আমরা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে বসবাস করেও ইসলামের সকল বিধান পালন করতে পারছি না। সেটা স্পষ্ট। যেমন, বিচারের ক্ষেত্রে আমরা ইসলামী নিয়ম মানতে পারছি না। কারণ, সরকার এবং সমাজ আমাদেরকে মানব রচিত আইন মানতে বাধ্য করছে। বাল্যবিবাহের ব্যাপারটিও ধরা যেতে পারে। আরও প্রচুর বিষয় আছে। তো, এই ক্ষেত্রে ফিকহুল আক্বল্লিয়্যাতের ব্যাপারটি সামনে আসে।

এটা নতুন কোন বিষয় নয়। এর উদাহরণ নববী যুগেও ছিল। মক্কী জীবনে মুসলমানরা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে অনেক ইসলামী অনুশাসন প্রকাশ্যে পালন করতে পারতো না। নাজাশী মুসলমান ছিলেন। রাসুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর গায়েবানা জানাজা পড়েছেন। কিন্তু তিনি ইসলামের সব বিধান পালন করতে পারেন নি। জিহাদের যাত্রা পথে বা দুর্ভিক্ষের সময় চোর ধরা পড়লে তার হাত কাটার হুকুম মওকুফ করার বিধান রাখা হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, ইসলাম বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে সহজকরণ (তাইসীর) এবং সক্ষমতা (ইস্তিতাআত) কে গুরুত্ব দিয়েছে।

রমাদান বুতী রহ. ফিকহুল আকল্লিয়্যাতের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেটা তাঁর ব্যাক্তিগত ইজতিহাদ। আমার জানা মতে তিনি ছাড়া আর কেউ এটা বলেন নি। এটা আসলে নতুন কোন বিষয় নয়। এ সংক্রান্ত বিধি বিধান পূর্বেও ছিল। আগের যুগে লিখিত ফিকহের কিতাবাদিতে এগুলো বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। তবে, 'ফিকহুল আকল্লিয়্যাহ্' নামে আলাদা করা হয়নি। তখন হয়তো প্রয়োজন ছিল না তাই করা হয়নি। যেমন, খেরাজ, আমওয়াল, ফরায়েজ, আল আহকাম আস সুলতানিয়্যাহ্ ইত্যাদি বিষয়গুলো আলাদ আকারে এক সময় ছিল না। কিন্তু পরে এগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে লেখা হয়েছে এবং নামকরণ করা হয়েছে।

এর অর্থ এই নয় যে, কোন সংখ্যালঘু মুসলমানের জন্য ইসলামের হুকুম পরিবর্তন হবে, হালাল হারামে কোন পরিবর্তন আসবে। তাশরীয়ের (বিধান প্রবর্তনের) মধ্যে কোন পরিবর্তন হবে না। তবে, তাতবীকের (প্রয়োগের) ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। তারা একান্ত বাধ্য হয়ে ইসলামের কোন বিধান পালন করতে না পারলে সেক্ষেত্রে তাদেরকে অপারগ ধরা হবে। সেটা, "হে মুমিন সম্প্রদায় তোমরা ইসলামে পুরোপুরি প্রবেশ করো" - এই নির্দেশের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে না।

এই ব্যাপারটি আমাদের সামনে থাকলে তুরস্কসহ বহু মুসলিম দেশের পরিস্থিতি বুঝতে সহজ হবে। কেউ ভুলের উর্ধে নয়। কিন্তু ভুল আর অপারগতার মধ্যে পার্থক্য না করে ঢালাও ভাবে কিছু বললে সেটা সংশোধন করার চেয়ে জুলুমের পর্যায়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

ওয়াল্লাহু ওরাআল ক্বাসদ।
.
#Muhammad Noman

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.