Header Ads

নুরের অশ্রু......!

নুরের অশ্রু......!

গোটা দুনিয়ায় কারা সবচেয়ে বেশি ফুটবলপ্রেমী জাতি?- তার একটি শর্টলিস্ট করলে তালিকার বেশ উপরের দিকেই থাকবে মিসরীয়রা। তাদেরকে ফুটবলপ্রেমী না বলে ফুটবল-উম্মাদ বলাই বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। আরব দেশগুলোতে বলতে গেলে এই একটাই খেলা আছে যেটাকে জাতীয় পর্যায়ের ধরা যায়। ফুটবল মিসরীয়দের রক্তে মিশে আছে। আফ্রীকান দেশগুলোর মধ্যে তাদের রেকর্ড সবচেয়ে ভালো। এবার দীর্ঘ ২৮ বছর পর মিসরীয়রা ওয়ার্ল্ডকাপের টিকেট পায়। তার উপর সালাহ্-জ্বর তো আছেই। বুঝতেই পারছেন তাদের অবস্থা কেমন হবে? কিন্তু সেই মিসরীয়দের অন্তত এক তৃতীয়াংশ জনগন এবার বিশ্বকাপে তাদের দলের পরাজয় কামনা করেছিল। চমকে উঠেছেন? বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে? তাহলে গত ১ মাসে মিসরীয়দের করা টুইটগুলো দেখতে পারেন।

স্বভাবতই প্রশ্ন আসছে, এর কারণ কি?

কারণ, ফ্যাসিস্ট সরকার। মিসরীয়রা খুব ভাল করেই বুঝতে পেরেছিল যে, যদি বিশ্বকাপে তাদের দেশ ভালো করে তাহলে গোটা জাতিকে তার উম্মাদনায় রেখে দেশকে আরও ফোকলা বানিয়ে ছাড়বে শাসকশ্রেনী। ঘুমের ঘোরে জবাই হওয়ার চেয়ে চোখের সামনে জল্লাদের ছুরি বুকে ঢুকতে দেখা শ্রেয়। কারণ, পরে আফসুসের মাত্রাটা অন্তত কম হবে। হয়তো সৌভাগ্যক্রমে জান বাঁচানোর কোন দৈব কারণ ঘটেও যেতে পারে।

মিসরীয়দের চিন্তার এই পরিবর্তন দেখে সত্যিই খুব অবাক হচ্ছি।

ভাগ্যিস আমাদের দেশ বিশ্বকাপে যায় নি। এখন যে পরিমান উম্মাদনা, গেলে কী হতো....?!  এখন তো নুরুল হক প্রাণ বাঁচানোর আশায় জড়িয়ে ধরার মত কারও একটা পা পেল। এ্যামিলি, জাহিদরা যদি মস্কোয় কোনভাবে একটা গোল দিতে পারতো তাহলে তার পরের দিন সকালে হয়তো দিল্লিতে গিয়ে আমাদের চোখ খুলত। মানির মান আল্লায় রাখসে!

স্বৈরাচারীদের ন্যাচার ধরতে না পারলে কপালে খারাবি আছে। তাদের একটা অতি প্রসিদ্ধ কৌশল হচ্ছে ১০ টা ইস্যুর জন্ম দিয়ে ২ টাতে একটু ঢিল দেয়া। এইটা বলা যে, দ্যাখো, আমরা কত সভ্য আর গণতান্ত্রিক। জনগনের চাহিবা মাত্র দাবি মেনে নিসি। চাহিদার চেয়েও আরও বাড়িয়ে দিয়েছি। চাইলো সংস্কার, করে দিলাম বাতিল। এর কারণ, এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি শিকার করা। প্রথমতঃ বিষিয়ে উঠা জনগনের লাফালাফি একটু কমানো। তারাও বোকার হদ্দের মতো মাদার অফ... টি লকব দিয়ে নাচতে নাচতে ঘরে গিয়ে বেঘোর ঘুম দিবে। প্রেশারকুকারে রান্না করতে গেলে একটা সময় বাষ্প ছেড়ে দিতে হয়। এটা নিয়ম। না হলে বিষ্ফোরণ ঘটবে। স্বৈরাচারীরা প্রেশারকুকারে রান্না ভালোই জানে। দ্বিতীয়তঃ বাইরের প্রভুদের "মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে" এই টাইপের বিরক্তিকর মিহি ধমকের একটা যুৎসই উত্তর তৈরি করা যায়। পারলে নোবেল কমিটিকে চিঠি দেয়!

স্বৈরাচারীদেরকে আমি আগেও অক্টোপাশের সাথে তুলনা করেছিলাম। এর বহু হাত পা আছে। একটা কাটতে গিয়ে জীবন শেষ করবেন। চৌদ্দটা আপনার গলা পেঁছিয়ে ধরবে। কোটা বৈষম্য, দ্রব্যমূলের উর্ধগতি, দূর্নীতি, দমন-পীড়ন, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস- এগুলো একেকটা ইস্যু। এগুলোর পেছনে পড়বেন তো বড়জোর একটার মধ্যে একটু প্রেশার কমিয়ে আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে। কাজের কাজ কিছুই হবে না। একটা দুইটা হাত কাটলে অক্টোপাশ মরে না।

তাছাড়া, স্বৈরাচারী আপনাকে অতটুকুই নড়াচড়ার সুযোগ দিবে যতটুকুর মধ্যে তাদের তেমন কোন আঁচড় লাগে না। সেখানে আপনি তাদের ছবি লাগান বা তাদের বাপ দাদার ছবি লাগান- সেগুলো তাদের কাছে খুব একটা আবেদন সৃষ্টি করে না। তারা অন্য কারণে চুপ থাকে। ঐ প্রেশারকুকারের বাষ্প হাল্কা করা। কিন্তু যখন আপনাদের নড়াচড়ার কারণে তাদের গায়ে সামান্যও তাপ লাগে সাথে সাথেই মধুচন্দ্রিমার অবসান ঘটে। কোটা আন্দোলনকারীদের বড় ভুল তারা শাহবাগ থেকে শিক্ষা নেয় নি। শাহবাগকে ছুঁড়ে ফেলতে পারলে প্রয়োজনে আপনাদের উদ্ধত মাথাও যে নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিতে পারবে সেটা অনেক আগেই আপনাদের বোঝা উচিত ছিল। সানায়ের তালে নাচা বন্ধ করে স্বর্পরানীরে নিয়ে চিন্তা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ফখরুল রিজভীরা থাক। ওদের কথা বলার দরকার নাই।

নুরের ঘটনার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, এর মাধ্যমে কোটা আন্দোলনের কৌশল নিয়ে যারা ফ্যান্টাসিতে ভুগতেছিলেন তাদের নিদ্রা ভাঙসে। অনেক রাজনীতি বিশ্লেষক এইটারে আধুনিক জটিল রাজনীতির একটি অতি ইউনিক স্ট্র্যাটেজি বলে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করেছিলেন। তাদের বেলুন আজকে ফাটলো। আব্বা, আম্মা, দিদি, ভাইয়া, নাতি -- যার গানই গান, কোন লাভ নাই। মেসি পেনাল্টি মিস করে, কিন্তু তারা করে না। অতএব, কাজ একটাই... সেটা না বুঝলে ঘুম দেন। খামোখা লাফিয়ে ক্যালোরি নষ্ট কইরেন না।

আব্দুর রহমান কাওয়াকিবী বলেছিলেন -

"যে জাতির সবাই অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগন স্বৈরাচারের ব্যাথা অনুভব করে না তারা স্বাধীনতা লাভ করার যোগ্য নয়।"
. অশ্রু......!

গোটা দুনিয়ায় কারা সবচেয়ে বেশি ফুটবলপ্রেমী জাতি?- তার একটি শর্টলিস্ট করলে তালিকার বেশ উপরের দিকেই থাকবে মিসরীয়রা। তাদেরকে ফুটবলপ্রেমী না বলে ফুটবল-উম্মাদ বলাই বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। আরব দেশগুলোতে বলতে গেলে এই একটাই খেলা আছে যেটাকে জাতীয় পর্যায়ের ধরা যায়। ফুটবল মিসরীয়দের রক্তে মিশে আছে। আফ্রীকান দেশগুলোর মধ্যে তাদের রেকর্ড সবচেয়ে ভালো। এবার দীর্ঘ ২৮ বছর পর মিসরীয়রা ওয়ার্ল্ডকাপের টিকেট পায়। তার উপর সালাহ্-জ্বর তো আছেই। বুঝতেই পারছেন তাদের অবস্থা কেমন হবে? কিন্তু সেই মিসরীয়দের অন্তত এক তৃতীয়াংশ জনগন এবার বিশ্বকাপে তাদের দলের পরাজয় কামনা করেছিল। চমকে উঠেছেন? বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে? তাহলে গত ১ মাসে মিসরীয়দের করা টুইটগুলো দেখতে পারেন।

স্বভাবতই প্রশ্ন আসছে, এর কারণ কি?

কারণ, ফ্যাসিস্ট সরকার। মিসরীয়রা খুব ভাল করেই বুঝতে পেরেছিল যে, যদি বিশ্বকাপে তাদের দেশ ভালো করে তাহলে গোটা জাতিকে তার উম্মাদনায় রেখে দেশকে আরও ফোকলা বানিয়ে ছাড়বে শাসকশ্রেনী। ঘুমের ঘোরে জবাই হওয়ার চেয়ে চোখের সামনে জল্লাদের ছুরি বুকে ঢুকতে দেখা শ্রেয়। কারণ, পরে আফসুসের মাত্রাটা অন্তত কম হবে। হয়তো সৌভাগ্যক্রমে জান বাঁচানোর কোন দৈব কারণ ঘটেও যেতে পারে।

মিসরীয়দের চিন্তার এই পরিবর্তন দেখে সত্যিই খুব অবাক হচ্ছি।

ভাগ্যিস আমাদের দেশ বিশ্বকাপে যায় নি। এখন যে পরিমান উম্মাদনা, গেলে কী হতো....?!  এখন তো নুরুল হক প্রাণ বাঁচানোর আশায় জড়িয়ে ধরার মত কারও একটা পা পেল। এ্যামিলি, জাহিদরা যদি মস্কোয় কোনভাবে একটা গোল দিতে পারতো তাহলে তার পরের দিন সকালে হয়তো দিল্লিতে গিয়ে আমাদের চোখ খুলত। মানির মান আল্লায় রাখসে!

স্বৈরাচারীদের ন্যাচার ধরতে না পারলে কপালে খারাবি আছে। তাদের একটা অতি প্রসিদ্ধ কৌশল হচ্ছে ১০ টা ইস্যুর জন্ম দিয়ে ২ টাতে একটু ঢিল দেয়া। এইটা বলা যে, দ্যাখো, আমরা কত সভ্য আর গণতান্ত্রিক। জনগনের চাহিবা মাত্র দাবি মেনে নিসি। চাহিদার চেয়েও আরও বাড়িয়ে দিয়েছি। চাইলো সংস্কার, করে দিলাম বাতিল। এর কারণ, এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি শিকার করা। প্রথমতঃ বিষিয়ে উঠা জনগনের লাফালাফি একটু কমানো। তারাও বোকার হদ্দের মতো মাদার অফ... টি লকব দিয়ে নাচতে নাচতে ঘরে গিয়ে বেঘোর ঘুম দিবে। প্রেশারকুকারে রান্না করতে গেলে একটা সময় বাষ্প ছেড়ে দিতে হয়। এটা নিয়ম। না হলে বিষ্ফোরণ ঘটবে। স্বৈরাচারীরা প্রেশারকুকারে রান্না ভালোই জানে। দ্বিতীয়তঃ বাইরের প্রভুদের "মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে" এই টাইপের বিরক্তিকর মিহি ধমকের একটা যুৎসই উত্তর তৈরি করা যায়। পারলে নোবেল কমিটিকে চিঠি দেয়!

স্বৈরাচারীদেরকে আমি আগেও অক্টোপাশের সাথে তুলনা করেছিলাম। এর বহু হাত পা আছে। একটা কাটতে গিয়ে জীবন শেষ করবেন। চৌদ্দটা আপনার গলা পেঁছিয়ে ধরবে। কোটা বৈষম্য, দ্রব্যমূলের উর্ধগতি, দূর্নীতি, দমন-পীড়ন, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস- এগুলো একেকটা ইস্যু। এগুলোর পেছনে পড়বেন তো বড়জোর একটার মধ্যে একটু প্রেশার কমিয়ে আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে। কাজের কাজ কিছুই হবে না। একটা দুইটা হাত কাটলে অক্টোপাশ মরে না।

তাছাড়া, স্বৈরাচারী আপনাকে অতটুকুই নড়াচড়ার সুযোগ দিবে যতটুকুর মধ্যে তাদের তেমন কোন আঁচড় লাগে না। সেখানে আপনি তাদের ছবি লাগান বা তাদের বাপ দাদার ছবি লাগান- সেগুলো তাদের কাছে খুব একটা আবেদন সৃষ্টি করে না। তারা অন্য কারণে চুপ থাকে। ঐ প্রেশারকুকারের বাষ্প হাল্কা করা। কিন্তু যখন আপনাদের নড়াচড়ার কারণে তাদের গায়ে সামান্যও তাপ লাগে সাথে সাথেই মধুচন্দ্রিমার অবসান ঘটে। কোটা আন্দোলনকারীদের বড় ভুল তারা শাহবাগ থেকে শিক্ষা নেয় নি। শাহবাগকে ছুঁড়ে ফেলতে পারলে প্রয়োজনে আপনাদের উদ্ধত মাথাও যে নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিতে পারবে সেটা অনেক আগেই আপনাদের বোঝা উচিত ছিল। সানায়ের তালে নাচা বন্ধ করে স্বর্পরানীরে নিয়ে চিন্তা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ফখরুল রিজভীরা থাক। ওদের কথা বলার দরকার নাই।

নুরের ঘটনার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, এর মাধ্যমে কোটা আন্দোলনের কৌশল নিয়ে যারা ফ্যান্টাসিতে ভুগতেছিলেন তাদের নিদ্রা ভাঙসে। অনেক রাজনীতি বিশ্লেষক এইটারে আধুনিক জটিল রাজনীতির একটি অতি ইউনিক স্ট্র্যাটেজি বলে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করেছিলেন। তাদের বেলুন আজকে ফাটলো। আব্বা, আম্মা, দিদি, ভাইয়া, নাতি -- যার গানই গান, কোন লাভ নাই। মেসি পেনাল্টি মিস করে, কিন্তু তারা করে না। অতএব, কাজ একটাই... সেটা না বুঝলে ঘুম দেন। খামোখা লাফিয়ে ক্যালোরি নষ্ট কইরেন না।

আব্দুর রহমান কাওয়াকিবী বলেছিলেন -

"যে জাতির সবাই অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগন স্বৈরাচারের ব্যাথা অনুভব করে না তারা স্বাধীনতা লাভ করার যোগ্য নয়।"
.
#Muhammad Noman

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.