সিরিয়ার মজলুমদের নিয়ে শিয়া ও বামদের তথ্যবিভ্রাট !

প্রথম আলোতে ফারুক ওয়াসিফের সদ্য লিখিত সিরিয়া বিষয়ক লেখাটি নিয়ে খুব আলোচনা চলছে। তিনি নাকি ইনিয়ে বিনিয়ে কইতে চাইলেন যে, আপনাদদের গৌত্বা নিয়ে কান্নাকাটি করার কোন যুক্তি নাই। কারণ, সেখানে আসাদ, ইরান, রাশিয়া মূলত জিহাদীদের বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধ করছে। তারপর গড়গড় করে কয়েকটা গ্রুপের নাম কইল। আর কয়েকটার নাম নিজে পয়দা করল। তাঁর পাশাপাশি সেইম আলোচনা চলছে পার্স টুডে আর রেডিও তেহরানের সাংবাদিক আশরাফ রহমানকে নিয়েও। 'নয়া দিগন্তে'র নয়া রুপ দেখেও পাঠকরা হতভম্ব।
এদেরকে আমি তিনটা ক্যাটাগরীতে ফেলি-
১. আমাদের দেশের চুপা শিয়া গোষ্ঠী। এরা এটা স্বীকার করতে চায় না। এদের কাজ হচ্ছে, সিরিয়ার কথা তুললেই ইসরাইল, এরদোগান আর সৌদীর প্রসঙ্গ তুলে বিষয়টা ঘোলাটে করে মূল প্রসঙ্গ থেকে আপনাকে দূরে সরিয়ে নেবে। আমার অভিজ্ঞতায় দেখছি, মানারাতের ছাত্রদের মধ্যে এই প্রবনতার লোক বেশী পাওয়া যায়। কিছু দিন আগে এইরকম একজনের সাথে আমার প্রচুর তর্ক হয়েছিল। তাদের কথা একটাই-- এই খবরগুলো ফেইক। বিবিসি, রয়টার্স, ডয়শে ভ্যালে, আল জাজিরা সবাই মিথ্যাচার করছে। সিরিয়ায় কোন গণহত্যা চলছে না। এদের কথা হচ্ছে সিরিয়া বিষয়ে ইরানী আর রাশিয়ান মিডিয়া যা বলছে তা-ই সত্য। বাকিগুলো বোগাস। গতকালও আমাকে একজন কমেন্ট করে আরটির (রাশিয়া টুডে) লিংক দিয়ে বলল, এইখানে দেখেন, সত্যটা কি? আমি বললাম, আরটি আমি দৈনিক পড়ি। আপনি বরং সত্য জানতে চাইলে আরটির বাইরে কিছু পড়ুন। এই পর্যন্ত আরটি গৌত্বার হতাহতের ব্যাপারে একটি রিপোর্টও করে নি। মানে রুশ বিমানগুলো সেখানে ফুল ছিটাচ্ছে। মরার প্রশ্ন আসছে কেন? এদের মধ্যে আরেকদলকে দেখবেন, এরা সব হত্যাকান্ডের জন্য আমেরিকা, ইসরাইল, সৌদী, তুরস্ক এবং "সুন্নী সন্ত্রাসীদের"কে দায়ী করবে। আসাদ এদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মহান দেশ প্রেমের প্রমান দিচ্ছে।
২. আমাদের দেশের পতিত বাম সম্প্রদায়। এটা ওদের জন্য নতুন নয়। ওরা সবকিছুতেই ইসলামের গন্ধ শুঁকে। কোনভাবে এই গন্ধ একটু নাকে লাগলে এরা সব জুলুমকে হালাল বানিয়ে নেয়। জাতীয়তাবাদী হোক বা অন্য ঘরণার হোক। ফারুক ওয়াসিফরা এই ঘরণারই মানুষ। এরা গোটা বিষয়টাকে কালো চশমা দিয়ে দেখবে। সাদাকেও কালো বলবে। এদের লেখাজোখায় এক মিলিয়ন মানুষের প্রানহানী নয়, জঙ্গীবাদ বিরোধীতাই মূল ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াবে।
৩. আমাদের দেশের বিবেকহীন আবাল পাব্লিক। এরা রাজনীতির 'র'ও বুঝে না। বলবে, আসাদের বিরুদ্ধে যারা আছে তাদের পক্ষে তো আমেরিকা আছে। তো, তাদেরকে সমর্থন করি কিভাবে? মানে, আমেরিকা-বিরোধীতাই বড় ফ্যাক্ট, আসাদের গণহত্যা না। আবার কতগুলোকে দেখবেন বলবে, ভাই সিরিয়া বা মধ্যপ্রচ্যের রাজনীতি বোঝা আমাদের কম্ম না। এইগুলো অনেক জটিল বিষয়। কেউই ধোয়া তুলসিপাতা না। আবার কতগুলারে বলতে দেখবেন, আসাদ চলে গেলে বিকল্প কি? বিপ্লবীদের মধ্যে তো কাউরে হাল ধরার মতো দেখি না। ভাবটা এমন যে, বিপ্লবীরা সব ওদের পাড়ার বখাটে পোলা। এদের সবাইকে উনার চেনেন। আর কতগুলারে দেখবেন, উৎকট এরদোয়ান ফোবিয়ায় আক্রান্ত। এরা গৌত্বাতেও তুরস্ককে টেনে আনবে আর এরদোয়ানের গুষ্ঠি উদ্ধার করে জিহাদী দায়িত্ব আন্জাম দেবে। তুরস্ক যে নিজেই অস্তিত্বের সংকটে আছে এইটা ওদের ছোট্ট মুন্ডুতে না ঢুকা স্বাভাবিক। আর কতোগুলো হচ্ছে, হেমিলনের বাঁশিওয়ালা আহমাদী নেজাদের পুরাতন হুংকারের যাদুতে এখনো বিকারগ্রস্ত। এদের মানবতাবোধ বিবেক এতো শূন্যের তলানীতে গিয়ে ঠেকছে যে, গোত্বার শিশুদের আধপোড়া রক্তাত্ব চেহারাও ওদের ঘিলুকে নাড়া দেয় না। ওরা এখনও ইরানকে মুসলাম জাতির দরদী বন্ধু মনে করে। এর বাইরে কিছুই বুঝতে রাজি নয়।
আর কতো বেশী শিশুদেহের 'পোড়াকয়লা'র তাপ লাগলে এদের বিবেক জাগ্রত হবে?

মুহাম্মদ নুমান ভাইয়ের কলাম 

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.