Header Ads

কুদস: ট্রাম্পের প্রত্যাশিত ঘোষণার নেপথ্যে

#এক.
ট্রাম্পের ঘোষণার কারণে যতোটুকু আশ্চর্য হয়েছি, ঠিক ততোটুকুই বা তার চেয়ে বেশী আশ্চর্য হয়েছি এই ঘোষণার পরে বা তার কয়েক দিন আগে থেকে আমাদের হাঁকডাক আর হাহুতাশ দেখে। যেন ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। কিংবা ট্রাম্পই এই প্রথম এই আজগুবি চিন্তাটি পয়দা করেছেন। অথচ, মুসলমান নামক বনী আদমের সিংহভাগই জানে না যে, এটি নতুন কোন সিদ্ধান্ত নয়। বরং আজ থেকে ২২ বছর পূর্বেই ১৯৯৫ সালের ২৩ শে অক্টোবর মার্কিন কংগ্রেসে কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিল পাশ করা হয়। এর পরের মাসে, নভেম্বরের ৮ তারিখে বিলটি পরিপূর্ণ আইনে পরিণত হয়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে আইনটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। তবে, প্রতি ৬ মাস অন্তর এটি পেছানো যাবে এমন একটি সুযোগ রাখা হয়। এই আইনটি (Jerusalem Embassy Act of 1995) নামে পরিচিত।
এই পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এবং মার্কিন সিনেটরদের মধ্যে অন্তত ২০ জন ব্যাক্তি কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করবেন এবং আমেরিকান দূতাবাস সেখানে স্থানান্তর করবেন বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু কেউই শেষপর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন নি। ১৯৯৫ সালে এই আইন পাশ হওয়ার পর থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত ট্রাম্পের পূর্বে ৩ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসেন। বিল ক্লিনটন, জুনিয়র বুশ এবং বারাক ওবামা। প্রত্যেকেই প্রতি ৬ মাস পরপর যখনই বিলটি হোয়াইট হাউজে আসে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য পিছিয়ে দিতেন। এভাবেই চলে আসছিলো। কিন্তু ট্রাম্প এসে এই প্রথা ভাঙ্গলেন। তিনি এবার পিছিয়ে না দিয়ে সেটার উপর মোটা কলমের খোঁচা বসিয়ে দিলেন। ট্রাম্প না দিলেও একদিন না একদিন যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটা করতেন। ট্রাম্পের এই খোঁচার মহিমা হচ্ছে দুটি- এর দ্বারা আমাদের গভীর ঘুমের হঠাৎ ছন্দপতন ঘটেছে। আর আমাদের শাসকদের বিরক্তির কারণ হয়েছে উটকো আরেকটি ঝামেলা মাথায় আসা এবং জাতির সামনে আরেকবার নগ্ন হওয়ার কারণে। ৯৫ সালে বিলটি পাশ হওয়ার সময় এবং তখন থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত ২২ বছর ধরে আমাদের ঘুমে কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়নি। ২০১৭ সালের ৬ই ডিসেম্বরে এসে হঠাৎ আমাদের মাথায় বজ্রপাত হয়। আমাদের মৌসুমি চৈতন্য ফিরে আসে। কিছুক্ষণ তড়পানোর পর যে আমরা আবার চান্দের দেশে চলে যাবো তা উনাদের ভালই জানা আছে। ইনসাফের সাথে যদি বলতে হয় তাহলে বলতে হবে যে, ট্রাম্পের বিচার চাওয়া, তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হবে শুধু এই অপরাধে যে, তিনি কেন আমাদের ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের ‘ওলিউল আমরদের’ (শাসকদের) কে প্রজাদের সামনে বিব্রত করেছেন? এ ছাড়া আর অন্য কোন কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না।
#দুই
আইনটি পূর্ব থেকে থাকলেও যেহেতু ঠিক এই সময়ে এবং ট্রাম্পের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে তাই সময়, পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং ব্যাক্তির একটি তাৎপর্য অবশ্যই আছে। ঠিক কি কারণে এই সময়ে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তটি নিলেন? – এ ব্যাপারে বিভিন্ন প্রসিদ্ধ রাজনীতি বিশ্লেষক এবং সংবাদপত্রগুলোর বিশ্লেষণে বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে। তার মধ্যে তিনটি মতামত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-
১.
বিখ্যাত ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ান এই ঘটনার কারণ হিসেবে আমেরিকা এবং ইসরাইলে কট্টর ক্রিশ্চিয়ান এবং ইহুদী জায়নবাদের উত্থানকে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে আমেরিকায় খ্রিস্টবাদী চরমপন্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মার্কিন মিডিয়াগুলো নিজেদের সভ্যতা ও উদারতার আলখেল্লায় দাগ লেগে যাবার ভয়ে এদের সংবাদ চেপে যায়। কিছু কিছু প্রকাশ করলেও যতোটুকু উঠে আসা দরকার তা আসে না। আসলেও সেগুলোকে ধর্মীয় বা জাতিগত সহিংসতার রূপ না দিয়ে স্রেফ সাধারণ অপরাধ হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। খ্রিষ্টানদের আকিদা হচ্ছে যতক্ষণ না কুদসে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে ততক্ষন পর্যন্ত যীশুর আবির্ভাব ঘটবে না। এবং যীশুর নেতৃত্বে গোটা দুনিয়ায় একক ঈসায়ী রাষ্ট্রও প্রতিষ্ঠিত হবে না। তাই মার্কিন রাষ্ট্রযন্ত্র এবং আমেরিকার নব্য-নাৎসিরা সর্বতোভাবে ইসরাইলকে সহযোগিতা করে। আমেরিকান পলিসি ম্যাকাররা তো স্পষ্টই বলে থাকে যে ইসরাইল নিচক একটি বন্ধু রাষ্ট্র নয়। বরং এর নিরাপত্তা আমেরিকানদের কাছে আমেরিকার নিরাপত্তার মতোই। নেতানিয়াহু যখন মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেন তখন ভাষণের ২০০ শব্দের বিপরীতে উপস্থিত কংগ্রেসম্যানরা ৩০০ বার হাত তালি দেন। স্বয়ং কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণে এতো বেশী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়ে থাকে বলে আমার জানা নেই। এক জরীপে দেখা গেছে আমেরিকার ৮০% জনগণ ফিলিস্তিনে একক ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে। মাত্র ১৯% আমেরিকান ফিলিস্তিনে আরব মুসলমানদের অধিকার সমর্থন করে। এই হল বিশ্বের সবচেয়ে বেশী সভ্য হওয়ার দাবীদার মানুষগুলোর নৈতিক অবস্থা। তো, এদের ভোট টানতেই ট্রাম্প তার নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। লক্ষ্য মৌলবাদী খ্রিষ্টানদের ভোট দখল করার পাশাপাশি আমেরিকার শক্তিশালী ইহুদী লবিগুলোর সমর্থন আদায় করা। তার এই কার্ড বিফলে যায়নি। কোন জরীপেই তাকে ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখানো না হলেও শেষপর্যন্ত তিনিই হয়েছেন হোয়াইট হাউজের বস। এখন তো তার দেনা পরিশোধ করতেই হবে।
একই চিত্র ইসরাইলে। সেখানেও বাম ঘরনার ইহুদী দলগুলো কোণঠাসা। নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ পার্টি’ এবং লিভারম্যানের ‘ইসরাইল বেইতুনা’-সহ চরম জায়নবাদী দলগুলোর জায়জয়কার। এরা দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্বকে তো মানেই না, এই সংক্রান্ত জাতিসংঘের যাবতীয় প্রস্তাবকে থোরাই কেয়ার করে। এরা নীল থেকে ফোরাত পর্যন্ত বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখে। তাই ব্যাক্তিগতভাবে চরম বর্ণবাদী, মুসলিম বিদ্বেষী, মৌলবাদী খ্রিষ্টানদের ভোট এবং ইহুদীদের দয়ায় হোয়াইট হাউজ দখলকারী একজন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে নেতানিয়াহুর মতো ধুরন্ধর ব্যাক্তি এরকম একটি কাজ আদায় করে নিতেই পারে। এতে আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নাই।
২.
গার্ডিয়ানে আরেকটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু দুই জনই নিজ নিজ দেশে বিশাল চ্যাল্যাঞ্জের সম্মুখীন। সর্বশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। সাবেক মার্কিন নিরাপত্তাপ্রধান মাইকেল ফ্যালেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর পরে ট্রাম্পের গলার ফাঁস আরও মজবুত হয়েছে। ট্রাম্প পরিবারকে বারবার কংগ্রেসে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, মার্কিনীরা এই ঘটনাকে এতো সহজে ছেড়ে দিবে না। ছোট্ট একটি সুঁইয়ের ফাঁক দিয়ে বিশাল কিছু বেরিয়ে আসতে পারে। সাথে আরেকটি ওয়াটারগেট এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক মৃত্যু। ইসরাইলেও নেতানিয়াহুকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইসরাইলী গোয়েন্দা এবং পুলিশ নেতানিয়াহুর পিছু ছাড়ছে না। তিনিও যেকোনো সময় ফেঁসে যেতে পারেন। তো, দুই পক্ষের গলার ফাঁস একটু ঢিলা করার জন্য মাঠে একটি সাপ ছেড়ে দেয়া নিতান্ত মন্দ ব্যাপার না।
৩.
ব্রিটিশ সংবাদপত্র টাইমস ভিন্ন একটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করেছে। কেবল ইঙ্গিত নয়, জোর দিয়ে বলেছে। ট্রাম্প তার নির্বাচনী সমাবেশগুলোতেও বারবার বলে আসছিলেন যে, তিনি ফিলিস্তিন সংকটের একটা স্থায়ী সমাধান বের করে ফেলবেন। তা যতো কঠিনই হোক না কেন। এমনও হতে পারে যে, এই কাজটির জন্যই তাকে হোয়াইট হাউজে আনা হয়েছে। তাই ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বার বার একটি চুক্তির কথা সামনে আসতে থাকে। মিডিয়ায় এই চুক্তিটিকে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই বিষয়ে পূর্বের একটি লেখায়ও কিছু লিখেছিলাম। এই পরিকল্পনার বিভিন্ন বিকল্প রূপ আছে। তার মধ্যে যে রূপটি নিয়ে মার্কিন প্রশাসন আপাতত সামনে এগিয়েছে সেটা হচ্ছে- পশ্চিমতিরে বেশ ছোট্ট পরিসরে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে ভ্যাটিকেনের স্টাইলে। তবে, তার কোন সার্বভৌমত্ব থাকবে না। কোন সেনাবাহিনী থাকবে না। ইসরাইলই দেশটির নিরাপত্তা দেবে। সম্ভাব্য এই দেশটির রাজধানী হবে কুদসের বাইরে ‘আবুদীস’ নামে একটি মফস্বল এলাকা। এর বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদেরকে চিরতরে কুদসের দাবী ছাড়তে হবে। এই প্রস্তাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সম্মত করতে ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের দ্বারস্থ হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট মতে বিন সালমান এই প্রস্তাবে সানন্দে রাজি হন এবং ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষকে রাজি করানোর দায়িত্ব নেন। এর পর মাহমুদ আব্বাসকে রিয়াদে ডেকে পাঠানো হয় এবং এই প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। মাহমুদ আব্বাস সেখানে হ্যাঁ না কিছু না বলে চলে আসেন। পরে যখন ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ সম্মত হচ্ছিলো না তখন শাস্তিমূলক বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। প্রথমে সৌদি আরবের মিডিয়াকে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয়। সৌদি এবং আমিরাতের মালিকানাধীন সকল মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একযোগে প্রচারণা চালানো হতে থাকে যে, ফিলিস্তিনিরাই ফিলিস্তিনকে বিক্রি করে দিয়েছে। কুদস, ফিলিস্তিন- এগুলো ফিলিস্তিনিদের ইস্যু। এর দায়ভার সৌদি আরব বা অন্যান্য রাষ্ট্রের বহন করার কোন মানে হয় না। দ্বিতীয় পদক্ষেপটি আসে আমেরিকার তরফ থেকে। প্রথমে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে দেয়া অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। তারপর ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের অফিসের লাইসেন্স নবায়ন করা হবেনা বলে জানিয়ে দেয়া হয়। এরপর তৃতীয় পদক্ষেপটি এসেছে ৬ই ডিসেম্বর কুদসকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার মধ্য দিয়ে। টাইমসের ভাষায়- “আব্বাসকে শায়েস্তা করতেই ট্রাম্প এই ঘোষণাটি দিয়েছেন”।
.
.
আমার ক্ষুদ্র বিবেচনা মতে- আমেরিকার রাষ্ট্র-ব্যাবস্থার দিকে তাকালে উপরের বিশ্লেষণগুলোকে খুব একটা যৌক্তিক মনে হয় না। অর্থাৎ এই ঘটনাটি ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ব্যাক্তিগত ইচ্ছাতে ঘটেছে- এমনভাবে চিত্রিত করার পক্ষে নই আমি। তার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে- আমেরিকা একটি সাম্রাজ্যবাদী দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হলেও দেশটির রাষ্ট্র-ব্যাবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ব্যাক্তিগত ইচ্ছা বা ঝোঁক তেমন কাজ করে না। অযৌক্তিক কোন কিছু করতে চাইলেও তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং কমগ্রেস-সিনেটের বিভিন্ন কমটির বাধার সম্মুখীন হয়। শেষপর্যন্ত তা আর কার্যকর হয় না। সৌদি নেতৃত্বে কাতারের উপর অবরোধ আরোপের প্রতি ট্রাম্পের ব্যাক্তিগত সমর্থন প্রদান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পেন্টাগনের বিরোধিতার মুখে ট্রাম্পের সমর্থন অকার্যকর হওয়া এই বিষয়ে একটি লেটেস্ট উদাহরণ। দ্বিতীয়তঃ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যদিও এখন এসেছে, কিন্তু বিলটি পাশ হয়ে আছে আজ থেকে ২২ বছর পূর্ব থেকে। আজ পর্যন্ত মার্কিন সমাজে এই বিলটির বিরুদ্ধে কোন প্রস্তাব উঠেনি এবং এখনও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মার্কিন জনমত সোচ্চার নয়। যেটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে সেটা হচ্ছে- এই সময়টি এই পদক্ষেপ নেয়ার উপযোগী কি-না? মূল প্রস্তাব নিয়ে বড় পর্যায়ে কোন দ্বিমত নাই। তাই সঙ্গত কারণে মনে হচ্ছে যে, এটি ট্রাম্পের একার সিদ্ধান্ত নয়; বরং আমেরিকার সুচিন্তিত পলিসি এবং বিগ গ্যামের অংশ। আমেরিকার নতুন মধ্যপ্রাচ্য-নীতির সাথে এর সম্পর্ক আছে। ৭০ বছর ধরে বয়ে বেড়ানো ফিলিস্তিন নামক বোঝাটিকে তাদের কাঁধ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার সময় হয়েছে। মুসলমানদেরকে নিচক উস্কানোর জন্য এমন করেছে- এই ধারণাও সত্য থেকে অনেক দূরে। আমেরিকার রাজনীতি এমন শিশুসুলভ মানসিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। ইরাক সিরিয়ায় আমেরিকা কোণঠাসা। সিরিয়ায় পুতিনের হাতে নাজেহাল হচ্ছে। দীর্ঘদিনের মিত্র তুরস্ক এখন চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখেছে। ইরানের বিরুদ্ধে হম্বিতম্বি করলেও বাস্তবে দেশটির টিকিটিও ছুঁইতে পারছে না। দীর্ঘদিনের বরকন্দাজ সৌদি আরবের নতুন মস্কো-প্রেমও দৃষ্টি এড়ানোর মতো নয়। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার পাল্লা দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমতাবস্থায় সম্ভাব্য পতন ঠেকানো এবং ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির হিসাব-নিকাশে কিছুটা ভারসাম্য আনার জন্য একটি ‘মাইনের বিস্ফোরণ ঘটানো’ খুব জরুরী হয়ে পড়ে। “কুদস”র চেয়ে বেশী ধ্বংসাত্মক মাইন সম্ভবত মার্কিন প্রশাসনের হাতে ছিল না।

কার্টেসিঃ  মোহাম্মদ নোমান 
আল আজহার ইউনিভার্সিটি, মিসর । 

1 comment:

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.