আহ, ইহুদিদের কি যে সৌভাগ্য সৌদির মত বন্ধু পেয়ে! !

“ইসরাইলী নেসেটে আমার চেয়ে বেশী আরব (মুসলমান) হত্যা করেছে এমন কেউ নেই।” গতকাল এই স্বগতোক্তিটি বের হয়েছে ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালুনের মুখ থেকে। তার নেতৃত্বেই ইসরাইলী সেনাবাহিনীর একটি গুপ্ত উইং ১৯৮৮ সালে তিউনিসিয়ায় ফাতাহের প্রথম সারির নেতা খলিল আল-ওয়াজির আবু জিহাদকে হত্যা করেছিলো। ইয়ালুন এটা বলেছিল সে কতোটা দেশ প্রেমিক সেটা বোঝানোর জন্য। তাইলে বোঝা গেলো- ইসরাইলে কে কতো বেশী আরব মুসলমান হত্যা করেছে সেটার উপর নির্ভর করে কে কতোটুকু দেশ প্রেমিক। এটা অবশ্য নতুন কিছু না। গোটা দুনিয়ার ইহুদীরা কে কতো বেশী মুসলমান হত্যা করেছে তা নিয়ে গর্ব করে। কয়েকবছর আগে আরেক সভ্য ইহুদী হলিউড সুপারস্টার টমক্রুজ বলেছিলেন- ‘ইসরাইলের উচিত সকল আরবকে হত্যা করা। তাহলেই মধ্যপ্রাচ্য শান্ত হবে’। মাত্র তিন দিন পূর্বে ২৫ শে নভেম্বর সুইডেনের একজন রাজনীতিবিদ মারটিন স্ট্রেইড বলেছেন- ‘মুসলমানরা ১০০% মানুষ নয়’।
তবে, এগুলো তথাকথিত মানবতাবাদীদের চেতনার ফিল্টারে ধরা পড়ে না। এগুলোতে তাঁরা বর্ণবাদের কোন গন্ধ খুঁজে পান না। কিন্তু হেফাজত আমীর যখন বলেন- ‘মোবাইল ইহুদীদের তৈরি। এগুলো থেকে বাচ্চাদেরকে দূরে রাখুন’- তখন আমাদের দেশের পতিত মানবতাবাদীরা তাদের চোখের সামনে মানবতার অপমৃত্যু দেখতে পান। বর্ণবাদী উক্তি বলে আলেম সমাজের গোষ্ঠী উদ্ধার করেন।মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যাঁদের দিন কাটে তাঁদের পক্ষে স্টিভ জবসরা কী বলেছে মোবাইল ব্যাবহার করা নিয়ে সেদিকে তাকানোর ফুরসৎই বা কোথায়! এইডা কিছুটা বোধগম্য।
কিন্তু যাদের রক্ত পান করে ইহুদীরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে, আমাদের সেই আরব ভাইয়েরা তাঁদের ইহুদী ভাই-ব্রাদারদেরকে কীভাবে দেখেন তার কয়েকটা নমুনা দেখেন-
গতপরশু তাওহীদের দেশে হয়ে গেলো ‘ইসলামী জোটে’র বেশ জাঁকজমকপূর্ণ অধিবেশন। মিটিংয়ের অন্যান্য যুগান্তকারী ঘোষণার মধ্যে একটি ছিল- “ফিলিস্তিনে জিহাদের নামে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে (ইহুদী দখলদারিত্বের মুকাবেলা করছে) তারা (হামাস, আল জিহাদুল ইসলামীসহ অন্যান্য গ্রুপের মুজাহিদরা) সকলেই সন্ত্রাসী।” গতবছর সে-দেশটির বাদশাহর উপদেষ্টা জেনারেল আনোয়ার ইশকী তেলআবীবে গিয়ে বলেছিলেন – “‘আমরা আর তোমরা (ইহুদীরা) চাচাত ভাই। সবাই নবী ইব্রাহীমের সন্তান। আমাদের মইধ্যে কোন সমস্যা নাই। সমস্যা হচ্ছে তুরস্ক ও ইরানকে নিয়া।”
চাচাতো ভাইদের সাথে গলায়গলায় পিরিতের ঢেউ যে শুধু মুহাম্মাদ বিন কাসিমের গায়ে লেগেছে তা নয়; বরং তাওহীদের দেশের আরও অনেককে তা স্পর্শ করেছে। আরবী প্রবাদে বলা হয়- ‘মানুষ তাদের শাসকদের ধর্মের উপরই চলে’। তো সে-দেশের হামযা বিন মুহাম্মাদ আস-সালিম নামে এক তাওহীদী ভাই টুইট করেছেন-
“আমি আশা করছি, যদি ইসরাইলের সাথে আমাদের দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যায়, আসা-যাওয়া এবং ভিসার জটিলতাগুলো কেটে যায়, তাহলে ইসরাইলই সৌদীদের ভ্রমণের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে। কারণ, এটি দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর এবং উন্নত একটি দেশ। প্রাচ্য এবং প্রতীচ্যের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ক্লাসিক এবং আধুনিক সভ্যতাকে এক সাথে ধারণ করে চলেছে। যখন আমরা তাদের সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবো ইসরাইলকে নিয়ে সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যাবে। আমাদের সরকার নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের উসকানি সহ্য করবে না।”
এই টুইটের রিপ্লাই দিয়ে লুই আল-শরীফ নামে আরেক ভাই টুইট করেছেন-
“তখন প্রতি সপ্তায় আমি জেদ্দা থেকে নবী দাউদের পবিত্র শহর ওরশালিম (কুদস) সফর করবো। তারপর ‘আরিহা’ যাবো যেটাকে ইউশা বিজয় করেছিলেন এবং জালিমদেরকে পরাজিত করেছিলেন। তারপর শেকীম (নাবলুস) যাবো, যেখানে ইয়াকুব তাঁর বিবি রাহিলের সাথে মিলিত হয়েছিলেন এবং ইউসুফ ও বেনিয়ামিনের জন্ম দিয়েছিলেন।”
এদের এমন নির্মল প্রেম আর মানবতা দেইখ্যা আবেগে আমাদের বাক রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা, ইহুদীদের চোখে ক্যামনে পানি আসে না সেইটাই ভেবে খুঁজে পাইনা। আহ, মুসলমানদের জন্য যদি এমন দরদী কেউ থাকতো!
যাউকগা, আমরা ইহুদীদের মতো অতোটুকু সৌভাগ্য নিয়া দুনিয়ায় পয়দা হইনি। ভাইবা লাভ নাই।
নাটক আরেকটা দেইখ্যা যান-
কয়েকদিন আগে কট্টর জায়োনিস্ট ইহুদী, নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক টমাস ফ্রেডম্যান ‘মক্কা-মদীনার শাসক’ ‘মুহাম্মাদ বিন সালমানের’র সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তো সেখানে তিনি তাঁর নতুন সংস্কার কার্যক্রমের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন-
“রাসুলুল্লাহ সাঃ এর যুগেও গান-বাদ্যের আসর ছিল। নারী-পুরুষের অবাদ মেলামেশা ছিল। অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল। ইসলামের প্রথম বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন একজন মহিলা। রাসুল সাঃ এগুলো সব মেনে নিয়েছিলেন। এখন আমরা কি বলতে পারি যে, তিনি মুসলমান ছিলেন না?”
.
.
কারজাবীকে নিয়া ফতওয়ার শেষ নাই। তাঁর ঈমান নাই বলে বেচারাকে তওবা পড়িয়ে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য তাওহীদী মাশায়েখদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আর তাঁদের কতোগুলো চ্যালা, ছাগলের ৯ নাম্বার ছানা, আমাদের দেশে বসে আমাদের ব্লাড প্রেশার হাই করে ছাড়ে- কারজাবীকে কেন এখনও মুসলমান মনে করি এই অপরাধে। এঁদেরকে সসম্মানে জিগাইতে ইচ্ছে হয়- বিন কাসিম তাহলে জান্নাতের কতো উঁচু স্তরে থাকবেন? জান্নাতুল মাওয়ায়, নাকি জান্নাতুল ফিরদাউসে?
আফনেরা কেউ এ বিষয়ে কোন ফতওয়া পাইলে ত্বরিতগতিতে এই অধমরে জানাইয়া দুই জাহানের অশেষ নেকী হাসিল করিবেন

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.