সৌদি আরবের ঔপনিবেশিক স্বপ্ন: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

#এক.
ঔপনিবেশিক যুগের ইতিহাস আমরা কম বেশী সবাই জানি। সে যুগে আন্তর্জাতিক আইন নামে কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। শক্তিই ছিল সকল ন্যায়-অন্যায়ের মাপকাঠি। স্বার্থই ছিল সকল বোঝাপড়া এবং ভাগ-বটোয়ারার কেন্দ্রবিন্দু। কলোনিয়াল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কয়েকটি শক্তি, যেমন- ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল এবং ইতালির দিকে তাকালে তা বোঝা যায়। দুনিয়ার যে অংশটি যে ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনে থাকতো সে শক্তিটিই হতো ঐ এলাকার নিয়ন্ত্রক। তাদের চোখের ইশারায় কেউ গোলাম থেকে রাজা হতো, আবার রাজাকে চৌরাস্তার মোড়ে ক্রুশবিদ্ধ করে ঝুলিয়ে দেয়া হতো। ঔপনিবেশিক যুগে খণ্ড-রাজ্যগুলোতে যদিও নাম কা ওয়াস্তে একজন স্থানীয় শাসক বসিয়ে দেয়া হতো, কিন্তু অর্থনীতি, বিদেশনীতি থেকে নিয়ে সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চাবি থাকতো বহিরাগত শক্তির হাতে। স্থানীয় শাসকদের মর্যাদা একজন ভৃত্যের চেয়ে বেশী থাকতো না। উপমহাদেশে মীর জাফর, মীর কাশিম এবং মিসরে মুহাম্মাদ আলী পাশার বংশের শাসকেরা এর বড় উদাহরণ। ইংরেজরা যখন যাকে চাইতো ক্ষমতায় বসাত, আবার যাকে চাইতো আস্তাবলে নিক্ষেপ করতো। হালের ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রাদেশিক মুসলিম সরকার প্রধানরা এবং আফ্রিকার সাবেক ফরাসী কলনীগুলোর বর্তমান শাসকরা এর লেটেস্ট উদাহরণ হতে পারে।
এই ধারা শুরু হয়েছিল মূলত ইউরোপের শিল্প-বিপ্লবের পর থেকে। কাঁচামালের চাহিদা পূরণ করা এবং উপচে পড়া উৎপাদিত পন্যের জন্য নিত্যনতুন বাজার তৈরি করা ছিল ইতিহাসের এই বর্বর আগ্রাসনের মূল কারণগুলোর একটি। এই ধারা চলেছিল মোটামুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। মাত্র অর্ধ শতাব্দীর মাথায় দু’দুটি মহাযুদ্ধ দুনিয়াকে আমূল পাল্টে দেয়। পুরাতন বিশ্ব-ব্যাবস্থা সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। তার স্থান দখল করে মার্কিন-সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত নতুন বিশ্ব ব্যাবস্থা। সূচনা হয় নতুন এক যুগের। প্রশ্ন হচ্ছে- এই নতুন যুগে এসে কি কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্রগুলোর কলোনিয়াল চরিত্র-নীতি-ধ্যান-ধারণায় কোন পরিবর্তন এসেছিল? উত্তর- মোটেও না। তবে, দুটি জায়গায় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে –
১. পুরাতন মুখগুলোর অনেকগুলোই প্রভাব বিস্তারের দৌড়ে পাল্লা দিতে না পেরে পরাজয় মেনে নিয়ে পর্দার আড়ালে চলে যায়। যেমন, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, জার্মানি এবং বেলজিয়াম। আবার কয়েকটি তার হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টায় ব্রত হয় এবং উচ্ছিষ্ট ভোগ করার জন্য বড় শক্তিগুলোর তোয়াজে লিপ্ত হয়। যেমন, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স। এগুলোর স্থান দখল করে নতুন দুই বিশ্বমোড়ল- আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন।
২. পূর্বের কলোনিয়াল শক্তিগুলোর সেকেলে কৌশলগুলো তারা বাদ দিয়ে নতুন বিশ্বব্যাবস্থার সাথে খাপ খায় এমন নতুন কৌশলের আশ্রয় নেয়। নতুন বিশ্বব্যাবস্থা বিশ্বকে উন্নত কোন যুগে প্রবেশ করায় নি। দুর্বল এবং শোষিত জাতি-রাষ্ট্রগুলোর ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন যা হয়েছে তা কেবল শোষকদের আলখেল্লা আর বেশভূষার, কৌশল ও পদ্ধতির। কলোনিয়াল যুগের ইতি ঘটেনি। পূর্বে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে কলোনী টিকিয়ে রাখা হতো। প্রচুর অর্থ-সম্পদ ব্যায় হতো। হাজার হাজার সৈন্য সামন্ত প্রাণ হারাত। প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর সাথে প্রতিনিয়ত লড়াইয়ে জড়িয়ে থাকতে হতো। কিন্তু বিশ শতকে এসে অন্যান্য বৈষয়িক উন্নতির পাশাপাশি কলোনিয়াল শক্তির মগজেরও বেশ উন্নতি হয়েছে। এখন তারা পূর্বের সেই ব্যাবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে নিজেদের উপনিবেশ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী নয়; বরং আরও নিখুঁত এবং অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলের জন্ম দিয়েছে। আজকের জাতিসংঘ, আনবিক শক্তি সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক আদালত, ইন্টারপোল- এগুলো সবই এই নতুন কৌশলের অংশ।
#দুই.
ধারণা করা হচ্ছে যে, আমেরিকার নজর এখন এশিয়ার দিকে। চীন রাশিয়া নিয়েই দেশটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তাই প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিন চীন সাগরে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য-নীতিতে। এখানে দেশটি তার উপস্থিতি কমাতে চায়। উপস্থিতি কমালেও মূল নাটাই নিজের হাতে রাখতে চায়। কীভাবে রাখবে? তার উত্তর কিসিঞ্জার বহু আগেই দিয়ে গেছেন- Chaos Theory বা
“বিশৃঙ্খলা নীতি”। স্থানীয় শক্তিগুলোকে পরস্পরের মধ্যে লড়িয়ে দিয়ে নিজে গ্রাম-সরকারের ভুমিকায় থাকা। কিসিঞ্জার বলেছিলেন- “দুনিয়ার সমস্যা সমাধান করা আমেরিকার দায়িত্ব নয়; ঠিকও নয়; বরং আমেরিকার দায়িত্ব হচ্ছে নিজের স্বার্থের অনুকুলে সংকটকগুলোকে পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রণ করা।” এই নীতির মাধ্যমেই আমেরিকা তার প্রস্থানের পরেও মধ্যপ্রাচ্যের লাগাম নিজের হাতে রাখতে চায়। আমেরিকার প্রস্থান-পরবর্তী সময়ে চারটি রাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবে। ইসরাইল, ইরান, তুরস্ক এবং সৌদি আরব। আমেরিকা এখানে দুটি কাজ করতে পারে। হয়তো এগুলোর মধ্য থেকে কোন একটিকে বেছে নিয়ে বাকিগুলোকে ধ্বংস করবে এবং ঐ রাষ্ট্রের মাধ্যমে গোটা মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণ করবে; অথবা কোনটাকে এককভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না দিয়ে সবগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এনে স্থায়ী একটি বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি করে নিজেই সবসময় বিচারকের ভুমিকায় থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে। পশ্চিমা গবেষকরা প্রথম সম্ভাবনাটিকে এগিয়ে রাখছেন
#তিন.
আমেরিকার বরকন্দাজ সেজে মধ্যপ্রাচ্য শাসন করার খোওয়াব যেসব দেশ দেখে থাকে সেগুলোর মধ্যে সৌদি আরব অন্যতম। সেটা সমস্যা না; মুশকিলটা হচ্ছে সৌদি আরব নতুন ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় ঠিকই, কিন্তু এর জন্য যেসব কৌশলের আশ্রয় দেশটি নিচ্ছে সেগুলো প্রথম মহাযুদ্ধ-পূর্ববর্তী কৌশল, যেগুলোকে সভ্য দুনিয়া আজ থেকে অন্তত ১০০ বছর পেছনে রেখে এসেছে। সৌদি আরবের বিগত ৬/৭ বছরের রাজনীতির সুরতহাল দেখলে একথা স্পষ্ট বুঝে আসে।
যেকোনো ঔপনিবেশিক শক্তি নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য সূক্ষ্মভাবে তার প্রতিপক্ষ নির্ণয় করে এবং সে অনুযায়ী শত্রুকে ঘায়েল করার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণ করে। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের সম্ভাব্য প্রতিদ্ধন্ধি হচ্ছে তিনটি। ১. পলিটিক্যাল ইসলামের পক্ষের শক্তিগুলো, যেমন- তুরস্ক, কাতার, ব্রাদারহুড এবং বিভিন্ন দেশে এর শাখা-সংগঠনগুলো। ২. ইরান এবং এর খঞ্জর হিসেবে কাজ করা এই এলাকার বিভিন্ন শিয়া সরকার এবং মিলিশিয়াগুলো। ৩. ইসরাইল।
#১.
প্রথমেই তারা মিশর দিয়ে শুরু করে। সামরিক ক্যুতে প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে সে দেশের ব্রাদারহুড সরকারের পতন ঘটায়।লিবিয়ায় ব্রাদারহুড সরকারের অংশ হওয়ার কারণে দেশটাকে ধ্বংস করে ছাড়ে। তিউনিসিয়াকে আরেকটি মিশর বানানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তিউনিসিয়ানদের রাজনৈতিক পরিপক্কতা এবং নাহদার দূরদর্শিতা সৌদী-আমিরাতের চক্রান্তকে নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়। এর পর নজর দেয় কাতারের দিকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে কাতারের বিরুদ্ধে গৃহীত তাদের কৌশলগুলো ছিল ১০০ বছরের পুরনো সেকেলে কৌশল। আধুনিক দুনিয়াতে যা অচলই নয়; বরং রীতিমত লজ্জাকর। ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা, তুরস্কের ঘাঁটি বন্ধ করা, আল জাজিরা বন্ধ করা, দেশটির আর্থিক লেনদেনের মাসিক হিসাব প্রদান করা- এধরণের দাবীগুলো একুশ শতকের সাথে সামঞ্জস্য নয়। আধুনিক বিশ্ব-ব্যাবস্থায় নিদেনপক্ষে কাগজে কলমে হলেও যেকোনো দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। কাতারের কাছে পেশ করা দাবী-দাওয়াগুলো কেবল দেশটির সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত নয়; বরং এগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে রাষ্ট্র হিসেবে কাতারের কোন অস্তিত্বই থাকবে না। আল-জাজিরা বন্ধ করার দাবীটি ছিল আরও বেশী হাস্যকর। কারণ, সভ্য দুনিয়ায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে একটি রাষ্ট্রের মৌলিক ভিতগুলোর একটি মনে করা হয়। গণমাধ্যমের উপর যেকোনো হস্তক্ষেপকে লজ্জাজনক এবং স্বৈরতন্ত্রের নিকৃষ্ট আলামত হিসেবে দেখা হয়। তাই বর্তমান দুনিয়ার স্বৈরসরকারগুলো গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরে ঠিকই; কিন্তু সরাসরি মৌখিকভাবে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে চায় না।
কাতার, ব্রাদারহুড- এগুলো সৌদি আরবের মূল বাধা নয়। মূল বাধা হচ্ছে তুরস্ক। তুরস্ককে পঙ্গু করার জন্যই কাতার-ব্রাদারহুদকে ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। জঙ্গিবাদ ইস্যু ব্যাবহার করে ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে সফলতা অর্জন করা গেলেও অচল কৌশলের কারণে কাতারের বিরুদ্ধে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। এখন সরাসরি তুরস্কের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। উত্তর ইরাকে কুর্দিস্তানের গণভোটে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা, মাসউদ বারজানীকে রিয়াদে ডেকে এনে পাশে থাকার আশ্বাস দেয়া, কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদের পক্ষে এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতের মিডিয়াগুলোর অবিরাম প্রচারণা- এগুলো সবই তুরস্ককে ঘায়েল করার কৌশল। কুর্দিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা নয়। উত্তর ইরাকে ব্যর্থ হয়ে এখন উত্তর সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়াদের দিকে নজর দিয়েছে। কিছুদিন পূর্বে গালফ বিষয়ক সৌদী মন্ত্রী থামের সাবহান রাক্কায় গিয়ে কুর্দি যোদ্ধাদের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং ইচ্ছে করেই তাদের সাথে সেলফি তুলে মিডিয়ায় প্রচার করে। উদ্দেশ্য তুরস্ককে এ কথা বুঝিয়ে দেয়া যে, আমরা হাল ছেড়ে দেইনি। এর পাশাপাশি সৌদি আরব, মিশর এবং আরব আমিরাতের মিডিয়াগুলোতে তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আরবে অটোমান “দখলদারিত্বে”র ইতিহাসকে বারবার টেনে আনা হচ্ছে। এরদোগানকে নতুন অটোমান সুলতান হিসেবে প্রচার করে আরবের জন্য তাঁকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। উদ্দ্যেশ্য- আরব জনগণের মধ্যে তুরস্কের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে এই এলাকায় দেশটির সামাজিক প্রভাব ক্ষুন্ন করা এবং এসব দেশের বাজারে কার্যত তুর্কি পন্যের প্রবেশ রুদ্ধ করে দিয়ে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলা। অবশ্য তুরস্কও বসে নেই। সৌদি আরবের কৌশল নস্যাৎ করার মতো মেধা এবং যোগ্যতা তুর্কি সরকারের আছে। কাতারে সামরিক ঘাঁটি গেঁড়ে সৌদি আরবের ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে। কাতার তো আগে থেকে আছেই, এখন কুয়েত এবং ওমানকেও সাথে নিয়ে সৌদি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এই সপ্তায় এরদোগানের সম্ভাব্য কাতার এবং কুয়েত সফর, বিন সালমানের ‘মধ্যপন্থী ইসলাম’ নিয়ে দেয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করা এর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
#২.
সৌদি আরবের ঔপনিবেশিক স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দ্বিতীয় বাধাটি হচ্ছে ইরান। জিওপলিটিক্স ছাড়াও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ইরান সৌদি আরবের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানী প্রভাব খর্ব করার জন্য প্রথমেই সিরিয়ায় আসাদ-বিরোধী গণআন্দোলনে সমর্থন দেয়। আসাদ-বিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র দলকে অর্থ এবং অস্ত্রের যোগান দেয়। কিন্তু এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। আসাদ এখনও টিকে আছে এবং নিকট ভবিষ্যতেও তার পতন ঘটবে বলে মনে হচ্ছে না।
এরপর সৌদি আরব শিয়া হুথী বিদ্রোহীদের দমন করার জন্য কয়েকটি আরব দেশের বিশাল যৌথ সেনাবহর নিয়ে ইয়েমেনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনিতেই দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে থাকা একটি দেশকে নির্বিচারে বোমা হামলা চালিয়ে আরও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হয়। হাজার হাজার বেসামরিক ইয়েমেনী নাগরিক নিহত হয়। খাদ্য এবং জরুরী ঔষধ-পত্রের অভাবে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে শতশত মানুষ। কলেরাসহ বিভিন্ন মরণব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। পানি নিষ্কাশন ব্যাবস্থা থেকে নিয়ে দেশটির সকল অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সুন্নীদের স্বার্থ রক্ষা করার নাম দিয়ে করলেও এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে নিজেদের ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। কিন্তু এখানেও তারা ব্যর্থ। সামরিক ব্যায়ের দিক দিয়ে বিশ্বের চতুর্থ স্থানে থাকা দেশটি আরও বেশ কয়েকটি দেশের সহযোগিতা নিয়েও সামান্য একটি মিলিশিয়াগ্রুপকে দুই বছরেও পরাস্ত করতে সক্ষম হয়নি। নভেম্বরের শুরুতে হুথীদের ছোঁড়া ব্যালেস্টিক মিসাইল রিয়াদ বিমানবন্দরে আঘাত করে। জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক সৌদি আরব এবং দোসর দেশগুলোকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
এরপর আসছে ইরাকের কথা। সাদ্দাম-পরবর্তী ইরাক একটি ইরানী প্রদেশ ছাড়া আর কিছু নয়। বাগদাদের সকল কলকাঠি নড়ে ‘ইরানী রেইনবো’ জেনারেল কাসেম সোলাইমানীর ইশারায়। ইরাকের বর্তমান শিয়াপ্রধান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি দেশটিতে বিচরণ করছে ডজনেরও বেশী ইরানী মিলিশিয়াগ্রুপ। এমন একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যাবস্থা নেয়ার ক্ষমতা যে সৌদি আরবের নেই, এটুকু অন্তত দেশটি বুঝতে পারে। তাই সামরিক হুমকির দিকে না গিয়ে রাজনৈতিকভাবে ইরাকে ইরানী প্রভাব মোকাবেলা করার চেষ্টা শুরু করে। বিন সালমান রাতদিন শিয়াদের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে গেলেও ঠিকই ইরাকী প্রধানমন্ত্রী হায়দার আব্বাদী এবং ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল সদরকে রিয়াদে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। উদ্দেশ্য ইরাককে ইরানের প্রভাব বলয়ের বাইরে নিয়ে আসা। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতার দৃষ্টিকোণ থেকে সৌদি আরবের এই পদক্ষেপটি নিচক ছেলেমানুষি ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ, ইরাকের কোন স্বাধীন নীতি নেই। এটি ইরানের একটি কলোনী। জেনারেল সুলাইমানী হচ্ছেন সে দেশে ইরানী গভর্নর। সাদ্দামের পতনের পর থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ইরাকে ইরান তার কৌশলী বিনিয়োগ করে গিয়েছে। এতো দীর্ঘদিনের ফসল কয়েক মিলিয়ন সৌদী রিয়াল এবং বিন সালমানের গোলবদন হাসির কারণে নষ্ট হবে না। এখানেও সৌদি আরব লস প্রজেক্ট খুলেছে।
সৌদি আরবের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তিতে যোগ হয়েছে লেবানন ইস্যু। আরব বিশ্বে আসাদের পর ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী হাত হচ্ছে হিজবুল্লাহ। দক্ষিন বৈরুত থেকে নিয়ে গোটা দক্ষিন লেবানন নিয়ন্ত্রণ করে দলটি। উপর্যপুরি ইসরাইলী হামলার বিরুদ্ধে দলটির সফল প্রতিরোধ একে লেবাননের রাজনীতি এবং সার্বভৌমত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তিতে রূপান্তর করে। সিরিয়ায় অমানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য দলটিকে আমরা অবশ্যই অভিযুক্ত করি। কিন্তু লেবাননের ভারসাম্যতা ও নিরাপত্তার জন্য যে দলটি অপরিহার্য তা স্বীকার করতে হবে। এজন্য লেবাননের খ্রিষ্টান নেতারাও হিজবুল্লাহর বিলুপ্তির বিপক্ষে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরানী প্রভাব বিলুপ্ত করার অংশ হিসেবে সৌদি আরব এখন হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করতে চায়। এ জন্য গত ৪ই নভেম্বর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সা’দ হারীরীকে রিয়াদে ডেকে নিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। প্রসিদ্ধ ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট ফিক্সের বর্ণনা মতে- হারীরীকে এক প্রকার ডাকাতের মতো বন্দী করা হয়। তার বিমান রিয়াদে ল্যান্ড করার সাথে সাথেই সৌদি পুলিশ বিমানটিকে ঘিরে ফেলে। তারপর বিমানে উঠে হারীরীসহ তাঁর গার্ডের কাছ থেকে মোবাইল এবং যাবতীয় অস্ত্র কেড়ে নেয়া হয়। তারপর একপ্রকার বন্দী করে সালমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়া হয়। হারীরীর সমস্যা হচ্ছে, তাঁর গোটা ব্যাবসা-বানিজ্য এবং ফ্যামিলি সৌদিতে থাকে। হারীরীকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য এগুলোকে ব্যাবহার করা হয়- এমন ধারণা করা হচ্ছে। শেষপর্যন্ত হারীরি পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু এর পরেও তিনি পার পেয়ে যান নি। তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। এখন তাঁকে দলীয় প্রধানের পদও ছাড়তে চাপ দেয়া হচ্ছে। তাঁর স্থানে সৌদিরা সা’দের ভাই বাহা হারীরীকে বসাতে চায়। একবিংশ শতাব্দীতে এসে একটি সার্বভৌম দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীকে ডেকে এনে ডাকাতের মতো বন্দী করা এবং সে দেশের একটি সরকারী পদ থেকে তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা- কোন সভ্য মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
সা’দ হারীরীর ঘোষণার পরপরই সৌদি আরব লেবানন সরকারকে সৌদির বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণাকারী সরকার বলে ঘোষণা দেয়। সকল সৌদি নাগরিককে লেবানন ছাড়ার নির্দেশ দেয়। আরব আমিরাত এবং কুয়েতও একই পথ অনুসরণ করে। এগুলোর বাহ্যিক ম্যাসেজ হচ্ছে- লেবাননে আরেকটি যুদ্ধ আসন্ন। কিন্তু যুদ্ধে কি সৌদি আরব নিজে জড়াবে, নাকি দেশটির দায়িত্ব কেবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আগ্রাসনের ক্ষেত্র তৈরি করা- আগ্রাসনের মূল কাজটি করবে ইসরাইল?- তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রিগারের পেছনে সরাসরি কাদের হাত থাকবে সেটা পরিষ্কার না হলেও এগুলো যে সৌদী-ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ পরিকল্পনায় ঘটছে তা স্পষ্ট। সৌদি আরব যে লেবাননে হামলা করার জন্য ইসরাইলকে উস্কে দিচ্ছে এ ব্যাপারে ইসরাইলী পত্রিকা হারেতজ রিপোর্ট করেছে।
#৩.
মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আরেকটি শক্তিশালী পক্ষ হচ্ছে ইসরাইল। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক দিয়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে এই অবৈধ রাষ্ট্রটি। ইসরাইলের সাথে সৌদি আরবের শত্রুতা কোন দিনই ছিলনা। এ ব্যাপারে আল জাজিরার সাংবাদিক আহমাদ মানসুর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করেছে। এটা ছাড়াও ইসরাইলের সাথে টেক্কা দেয়ার সাহস এবং ক্ষমতা কোনটাই সৌদি আরবের নাই। তার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে- দেশটিতে জনগণের সরকার নেই। সৌদি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্রিটিশদের মাধ্যমে। আর এখন টিকে আছে আমিরিকার দয়ায়। এরকম গনবিচ্ছিন্ন সরকারের গদি উল্টে দেয়া ইসরাইলের জন্য কয়েক মাসের ব্যাপার। তাই ইসরাইলের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। বন্ধুত্ব দিয়েই এই বাধা জয় করতে সচেষ্ট হয়। ট্রাম্পের সৌদি আরব সফর, বিন সালমানের ইসরাইল সফর [এই অভিযোগটি সৌদি আরব অস্বীকার করে। কিন্তু ইসরাইলী পত্রিকায় তা ফাঁস করা হয়েছে], এবং ট্রাম্পের জামাতা কট্টর যায়োনিস্ট ইহুদী কুশনারের ঘনঘন রিয়াদ সফর- এই পরিকল্পনারই অংশ।
কিন্তু ইসরাইলীরা এতো বোকা নয় যে, বিন সালমানের নেতৃত্বে তারা চলবে। বরং উল্টো ইসরাইলই সৌদি আরবের ঘাড়ে চড়বে এবং সৌদি আরবের মাধ্যমে গোটা আরব বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করবে। আগে ইসরাইল এই কাজটি করতো মিসরের মাধ্যমে। কিন্তু মিসরের পিছিয়ে পড়ার পর এখন তারা সেই কাজটি করতে চাচ্ছে সৌদি আরবকে দিয়ে।
এই দীর্ঘ আলোচনা থেকে যে সমীকরণটি বুঝে আসে তা হচ্ছে-
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার বাহ্যিক প্রস্থান ঘটলেও দেশটি ইসরাইলকেই এলাকায় তাদের গভর্নরের দায়িত্ব দেবে। এই গভর্নরের অধীনে সৌদি আরব এবং মিসর জমিদার এবং লাঠিয়ালের ভূমিকা পালন করবে এবং খাজনা আদায় করবে। বিখ্যাত আমেরকান ম্যাগাজিন ‘ফরেন পলিসি’র মতে- “এভাবেই সামনের দিনগুলোতে আমেরিকা- ইসরাইল, মিসর, সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতকে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন চেইন অব পাওয়ার তৈরি করবে।”
#চার.
বিন সালমানের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষপর্যন্ত সফল হবে কি না – তা সময়ই বলে দেবে। তবে, বিভিন্ন কারণে তা আপাতত অসম্ভব মনে হচ্ছে। কারণগুলো বিস্তারিত না বলে শুধু পয়েন্ট আকারে উল্লেখ করছি-
১. ঐতিহ্যগতভাবে ইরান এবং তুরস্কের যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আছে তার ধারে কাছেও নেই সৌদি আরব। স্থানীয় পরাশক্তি হওয়ার মতো যে পরিমাণ মেধা এবং থিঙ্কট্যাংক থাকা দরকার তার ছিটেফোঁটাও নেই। যারা আছে তারা চরম স্বার্থান্বেষী দরবারী মুসাহেব ছাড়া আর কিছু নয়। সময়ের সাথে যারা রঙ পাল্টাতে একটুও দেরী করবে না। তুরস্কের কথা বাদ দিলেও একা ইরানের মোকাবেলা করার সামর্থ্যও সৌদি আরবের নাই। ইরানের বিরুদ্ধে বিন সালমানের হুমকি ধমকি স্রেফ আইওয়াশ ছাড়া আর কিছু নয়।
২. লেবাননে সৌদি হামলা প্রায় অসম্ভব। তার কারণ- প্রথমতঃ লেবাননে প্রচুর মেরোনাইট খ্রিষ্টান বসবাস করে। সংবিধানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট খ্রিষ্টান হতে বাধ্য। দেশটিতে আগে ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। তাই আমেরিকানরা কিছুটা শীতলতা প্রদর্শন করলেও ইউরোপিয়ানরা কখনোই লেবাননে হামলা করতে দিবে না। লেবাননে হামলার আশংকা তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই ফরাসী প্রেসিডেন্ট রিয়াদে ছুটে গিয়ে বিন সালমানকে শাসিয়ে আসেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও গতকাল কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন- “লেবনন একটি স্বাধীন দেশ। এর স্বাধীনতার প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।” দ্বিতীয়তঃ সৌদি আরবের মিত্র, এই এলাকার বড় শক্তি মিসর লেবাননে হামলার বিরোধিতা করছে। সিসি স্পষ্ট করে বলেছেন- মিসর লেবাননের সরকার এবং জনগণের পক্ষে থাকবে। জর্ডানেরও একই মত। ইসরাইলী মিডিয়ায়ও নেতানিয়াহুকে বার বার হুঁশিয়ার করছে সৌদি আরবের কোন অপরিণামদর্শী কাজের অংশীদার না হতে।
৩. সৌদি আরবের অপরিকল্পিত ও অস্থির পররাষ্ট্রনীতি। দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব। মিত্রদেরকে চোখের পলকে শত্রু বানানোর মতো তুঘলকী নীতি।
৪. আরব ভূখণ্ডে শিয়া প্রভাব মোকাবেলার সবগুলো দেয়াল সৌদি আরব নিজেই ভেঙ্গেছে। সাদ্দামের পতন ঘটানোর জন্য আমেরিকাকে ডেকে নিয়ে এসে সৌদি আরবই আরব উপদ্বীপে ইরানের প্রভাব নিশ্চিত করেছে। এর পর উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সংস্থা ‘জিসিসি’ এতদিন পর্যন্ত গালফভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে ইরানী প্রভাবের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিচ্ছিল। কিন্তু কাতারের সাথে অনর্থক ঝামেলার কারণে এই সর্বশেষ বুহ্যটিও এখন সৌদি আরবের খামখেয়ালীর বলি হয়েছে।
৫. বাইরে প্রভাব বিস্তার করতে পারার পূর্ব শর্ত হচ্ছে দেশটি আভ্যন্তরীণভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা। আভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত কোন রাষ্ট্র কস্মিনকালেও নিজ সীমানার বাইরে কার্যকর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। দীর্ঘ প্রায় ৯০ বছর ধরে সৌদি রাজপরিবারের ঐক্য অটুট থাকলেও বিন সালমান এখন তা ধ্বংস করে দিয়েছেন। আব্দুল আজীজের সৌদি আরবকে ভেঙ্গে এখন “সালমানী ধারা” প্রবর্তন করাই তাঁর উদ্দেশ্য। আগামীতে সালমানের বংশধররাই এই দেশটি শাসন করবে। মারওয়ান ইবনে হাকাম যেমন ইয়াজিদের মৃত্যুর পরে বনু উমাইয়ায় মারওয়ানী ধারা প্রবর্তন করেছিলেন। তাই এখন বিন সালমানকে নিজ পরিবারের বুলেটের ভয়ই সবসময় বিচলিত করে রাখবে। ফয়সালের পরিণতি তাঁর অজানা নয়। তাছাড়া, গ্রেপ্তারকৃত প্রিন্সদের সাথে চরম অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। কাউকে হত্যা করা হয়েছে। কাউকে আহতাবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদেরকে প্রচণ্ড নির্যাতন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠছে। আরবরা স্বভাবগতভাবে একরোখা এবং প্রতিশোধপরায়ণ। এই ঘটনার শেষ বিন সালমান যেভাবে চাচ্ছেন সেভাবে নাও হতে পারে।
৬. সৌদি আরবের অর্থনীতি মারাত্মক দুঃসময় পার করছে। বিশ্ববাজারে তেলের মুল্যের নিম্মগতির কারণে এমনিতেই সৌদি অর্থনীতি কঠিন চ্যালাঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। তার উপর এখন রাজপরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রাপ্তার অভিযান অর্থনীতির চাকাকে আরও স্থবির করে দিয়েছে। ঘটনার সাথে সাথেই সৌদি আরবের শেয়ার বাজারে ধস নামে। এই ঘটনার কারণে বিন সালমানের পরিকল্পিত “নিউম সিটি” হুমকির মুখে পড়বে। যে দেশে রাতারাতি ১৮ জন প্রিন্সকে বন্দী করা হয় সে দেশে কোন পাগলই বিনিয়োগ করতে আসবে না।
৭. একই সাথে একাধিক ফ্রন্ট খোলা। ইয়েমেন ইস্যু শেষ না করেই লেবাননের বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তার পূর্বে কাতারের সাথে ঝামেলা পাকিয়েছে। তারও কোন সুরাহা হয়নি। তার সাথে যোগ হয়েছে তুরস্কের বিরুদ্ধে অপরিণামদর্শী বিভিন্ন উসকানিমূলক পদক্ষেপ। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের পক্ষেও এরকম পরিস্থিতে বিজয় লাভ করা সম্ভব নয়। নেপোলিয়ান এবং হিটলারের পরিণতি সবার জানা আছে। স্বয়ং সৌদি জেনারেল আনোয়ার ইশকী এ বিষয়ে টুইট করে বিন সালমানকে সতর্ক করেছেন।
মুহাম্মদ নুমান

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.