একজন ইহুদির দালালের গল্প শুনুন!!

বাল্যকালে এরদোগান যখন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়তে যেতেন,পাবলিক হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলতো,
“কোন জায়গায় পড়ো মিয়া হাঁ ? ওইখানে পইড়া জীবনে কিছু করতে পারবা ?”

বালক এরদোগান স্বভাবসুলভ একটু মিস্টি হাসি দিয়ে পাশ কাটিয়ে যেতেন।

ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স কমপ্লিট করার উদ্দেশ্যে এসে পড়ে গেলেন দারিদ্রের কবলে।
তিলওয়ালা পাউরুটি ও লেবুর শরবত বিক্রি করে পেট চালাতে লাগলেন তুরস্কের এই কথিত দালাল।
করুণ চোখে ইস্তাম্বুলের অলিগলির দিকে তাকিয়ে থাকতেন।ভাঙাচোড়া রাস্তা,উপচে পড়া ড্রেন,যানযট ছিলো সাধারণ সমস্যা।

মেয়র সাহেবেরা বাজেটের দোষ দেখিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকতেন। মাস্টার্স কমপ্লিট হলো।
মেয়র সাহেবের জীবিকার দৌড় শুরু হলো।
এরই মধ্যে ১৯৯৪ সালে ইস্তাম্বুলের মেয়র বনে গেলেন।

অতঃপর ১৯৯৬ সালের মধ্যে পুরো ইস্তাম্বুলের চেহারাই পাল্টে দিলেন। কথিত অল্প বাজেট নিয়েই একের পর এক ফ্লাইওভার,চার লেন সড়ক, ফুটপাট, বাইপাস রাস্তা, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশণসহ বড় বড় কাঠামো নির্মাণ করে রাতারাতি দেশবাসীর হিরো হয়ে উঠলেন।

এরই মধ্যে এলো সবচেয়ে বড় আঘাত।তুর্কি সরকার ইসলাম ধর্মের আচার আচরণ পালনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বসলো। এহেন নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের বড় বড় লিডারদের এক কনফারেন্সে স্টেজে দাঁড়িয়ে স্বগর্বে স্বরোচিত একটা কবিতা আবৃত্তি করে ফেললেন-----

“মসজিদ আমাদের ব্যারাক,
গম্বুজ আমাদের হেলমেট,
মিনার আমাদের বেয়নেট
আর বিশ্বাসীরা আমাদের সৈনিক।”

ব্যস্! মেয়র সাহেবের হয়ে গেলো চার বছরের জেল ! ২০০১ সালে জেলফেরৎ এরদোগান তার এ.কে.পি. পার্টির পক্ষে দাঁড়িয়ে বিপুল ভোটে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন। আইন সংশোধন করে বছরখানেক পর তুরস্কের ভাগ্যবিধাতা প্রেসিডেন্ট হয়ে জেঁকে বসলেন এই স্লিম ভদ্রলোক।

একের পর এক মসজিদ সংস্কার করলেন, হাফেজিয়া মাদ্রাসা গুলোকে স্বীকৃতি দিলেন, সকল শ্রেণির নারীরা যাতে পড়তে পারে সেজন্য হিজাবের দাম কমিয়ে দিলেন,

উত্তপ্ত ছাই ঢেলে কামাল পাশা নামক বাস্টার্ডের পুঁতে যাওয়া সেক্যুলারিজম নামক গাছকে এক নিমেষে মেরে ফেললেন, আরো কত কি !

আর সর্বশেষে ডারউইন নামক ইহুদী ক্রীড়ানকের বিবর্তন তত্ত্ব সিলেবাস থেকে দিলেন তুলে…!
সর্বোপরি মুসলিম বিশ্বের মুকুটহীন সুলতান বনে গেলেন।

আজ আমাদের বাংলাদেশের ফতোয়াবাজ আলেমদের মুখে নতুন ইতিহাস শুনছি তিনি নাকি ইহুদীদের দালাল। তার দাড়ি-গোঁফ নেই, কোট প্যান্ট পরে ঘুরে বেড়ায় এই সকল ফতোয়াবাজরা।

ফতোয়া রাষ্ট্রে কি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে ? যারা নিজ দেশের জালিম সরকারের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিতে পারে না, তারা এরদোগানের মত উদারচেতা শাসকের ওপর ফতোয়াবাজি করার নগ্নচিন্তা পায় কোত্থেকে ?

তারা ইসলামের মুখোশ পরা মানুষের বিরুদ্ধে কিছু বলেনা কিন্তু কেউ ইসলামের রাজ ক্বায়েম করতে গেলে তাঁদের ওপর ফতোয়া দেখায় !

আল্লাহ্ পাক এরদোগানের হাতে উসমানী খিলাফাতের পুনরুজ্জীবন ঘটান।

2 comments:

  1. Amader desher fotua bajder ki dosh bolun, ora shikheche je lebash, poshaker modhei iman. Ora shikheni ridoye iman rakhar kotha. British ra edeshe e dhoroner jotuabaj Saudi toiri korar nil nokhsha onek agei kore rekhe giyechilo. Mollader tiroshkar na kore borong bujhano uchit. after all they are Muslim brothers

    ReplyDelete
  2. mader desher fotua bajder ki dosh bolun, ora shikheche je lebash, poshaker modhei iman. Ora shikheni ridoye iman rakhar kotha. British ra edeshe e dhoroner jotuabaj Saudi toiri korar nil nokhsha onek agei kore rekhe giyechilo. Mollader tiroshkar na kore borong bujhano uchit. after all they are Muslim brothers

    ReplyDelete

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.