মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি ও কিছু কথা।

চট্টগ্রামে প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী (আল্লাহ তাকে জান্নাত দিন) এর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহত ১০ !

একজনের কুলখানি খেতে গিয়ে দশজন লোকের প্রাণ গেল।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে শো অফ করা এখন খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বছর দুয়েক আগে যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে ময়মনসিংহে ১৭ জন নিহত হয়েছিল।

বিয়ের অনুষ্ঠান করবে, হাজার অতিথির কমে অনুষ্ঠানই হবে না। অথচ বিয়েও একটা ইবাদতের অংশ।

যদিও কুলখানির ব্যাপারে ইসলামে কোন রেফারেন্স (কুরআন, হাদীস) নেই, তবুও আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশে এটি বেশ জনপ্রিয় ট্রেডিশন।

এদিক সেদিক থেকে কিছু পরোক্ষ জিনিস টেনেটুনে নিয়ে ধর্মীয় মোড়কে ঢুকিয়ে নাম কুলখানি দিয়ে এটাকে একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে।

সেদিক না হয় বাদ দিলাম।

কিন্তু কুলখানির আয়োজনটা বিয়ে বাড়ির আয়োজনের চেয়ে কম কিছু নয়। যার মা বা বাবা মারা গেছে তারা ছাড়া বাকি সবার মাঝে একটা উৎসব উৎসব ভাব কাজ করে কুলখানি উপলক্ষ্যে।

মরা বাড়ি, কি শোক করবে, কি শান্তনা দিবে, তা নয়। আত্মীয় স্বজন সব খাবার দাবাড় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে। এর মধ্যে আবার বিশেষ বিশেষ আত্মীয়দের বিশেষভাবে খাতির না করলে নানা কথা উঠে।

মানুষ মারা যাওয়ার পর তার জন্য আত্মীয় স্বজনদের অবশ্যই কিছু করনীয় কাজ রয়েছে, যা মৃত ব্যক্তির পরকালের জন্য কাজে লাগে।

কিন্তু না জানার কারণে, যা করণীয়, সেটা না করে অযথা অনেক কিছু করে ফেলি আমরা। যা আমাদেরও কাজে লাগে না, মৃতব্যক্তিরও কাজে লাগে না।

রাসুল (সাঃ) বলেন, “মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের দরজা বন্ধ হয়না। তা হল-

১) ছাদকায়ে জারিয়া,
২) যদি এমন সন্তান রেখে যায়, যে পিতার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করবে,
৩) যদি এমন দ্বীনি শিক্ষা রেখে যায়, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। (সহীহ মুসলিম)

ছাদকায়ে জারিয়া হল এমন ভাল কিছু করে যাওয়া বা রেখে যাওয়া যার দ্বারা যতদিন মানুষ উপকৃত হবে, ততদিন পর্যন্ত তার আমল নামায় ছওয়াবের একটা অংশ পৌঁছে যেতে থাকবে।

যেমন- মসজিদ, মাদ্রাসা বানানোয় সাহায্য করা, জনসাধারণের জন্য টিউবওয়েল বসানো ইত্যাদি।

যদি কেউ নেক সন্তান রেখে যায় এবং সে সন্তান আল্লাহর কাছে মৃত পিতা-মাতার জন্য দু’আ করে, তাহলে সে দু’আর মাধ্যমে তারা উপকৃত হবেন।

আবার কেউ যদি দ্বীনি কোন শিক্ষা রেখে যায় বা প্রচার করে, যার দ্বারা দ্বীনের প্রসার হয় কিংবা মানুষ সঠিক পথে চলে, তাহলে সেই সওয়াবও তিনি মৃত্যুর পরে পেতে থাকবেন।

মানুষকে খাওয়ানো অবশ্যই ভাল কাজ। কিন্তু সেটা মৃত্যুর নির্দিষ্ট একটা দিন পরই খাওয়ানোর যে রীতি আমরা পালন করি, তা ধর্মে কোথাও নেই। যে নিয়ম ধর্মে নেই, সেটা ধর্মের নামে পালন করার অর্থই হল ধর্মের ভেতর নতুন কিছু বানিয়ে ঢুকে দেওয়া।

অনেকে বলতে পারেন, একটু আধতু করলে এ আর এমন ক্ষতি কি? তাছাড়া এটা তো খারাপ কোন কাজ নয়।

আসলে, ধর্মে যা আছে, তার অতিরিক্ত কেউ একবার কিছু ঢুকালে এটা পরম্পরায় চলতে থাকে ও এক সময় মানুষ সেটাকেই ধর্মের একটা অংশ ও ইবাদত বলে মনে করা শুরু করে।

কেউ তার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো দিন যেকোনো সময়ে যে কাউকে খাওয়াতে পারে। সেটা মৃত বা জীবিত- যে কোন অবস্থায়ই  হতে পারে। তবে তা সুনির্দিষ্ট করে মারা যাওয়ার তিনদিন, পাঁচদিন, চল্লিশদিন পর এভাবে আনুষ্ঠানিকতার সাথে পালন করে নয়।

খাওয়ানোর চেয়েও মৃতব্যক্তির জন্য যে সকল করনীয় কাজ কুরআন, হাদীসে উল্লেখ রয়েছে, বরং সেদিকেই আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

যেমন- ঋণ পরিশোধ করা, ওসিয়ত পুর্ন করা, বাকি থাকা ফরয ও মানতের রোযা পালন করা, হজ্ব করা, তার পক্ষ থেকে দান সাদকা করা, তার রুহের মাগফেরাতে আল্লাহর কাছে একাকি দুআ করা ইত্যাদি।

Dr. Taraki Hasan Mehedi

No comments

Theme images by PLAINVIEW. Powered by Blogger.